সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৫ ডিসেম্বর: জমি নিয়ে বিবাদের জেরে এক প্রতিবেশী যুবকের নৃশংস আক্রমণে প্রাণ হারালেন পিতা ও পুত্র। এছাড়াও বাড়ির গৃহকর্ত্রী আশঙ্কা জনক অবস্থায় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় বাঁকুড়া শহরের নতুনচটি এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘাতক যুবক পিন্টু রুইদাস পলাতক।
ঘটনার বিবরণে জানাগেছে, অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মথুরা মোহন দত্তর সাথে প্রতিবেশী পিন্টু রুইদাসের বাড়ির লাগোয়া জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ। এনিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকতো। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গতকাল সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার পথে মথুরাবাবুর ছোট ছেলে শ্রীধরের সাথে পিন্টুর ঝগড়া হয়। সেই সময় শ্রীধরকে মারধর করে পিন্টু।শ্রীধর বাড়ি ফেরার পর ফের ঝামেলা শুরু হয় যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছায়। ক্ষিপ্ত পিন্টু ছোরা, ভোজালি নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। এই সময় মুথুরাবাবু ও তার স্ত্রী বেরিয়ে আসেন। তাদেরকে সামনে পেয়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছুরি ও ভোজালির কোপে মথুরাবাবু, তার স্ত্রী ও পুত্র শ্রীধর গুরতরভাবে জখম হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনজনকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গভীর রাতে মুথুরাবাবু মারা যান। আজ ভোরে তার পুত্র শ্রীধর (২৪)মারা যায়। তার স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার পরেই পিন্টু পলাতক। পুলিশ মামলা দায়ের করে পিন্টুর খোঁজ শুরু করেছে।
স্হানীয় সূত্রে জানাগেছে, মথুরাবাবু বাঁকুড়া মিশন বয়েজ স্কুলের শিক্ষক। প্রায় বছর চারেক আগে অবসর নেন। মথুরাবাবুর দুই পুত্র। বড়, সায়ন দত্ত কলকাতায় বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত। ছোট, শ্রীধর এই ঘটনায় নিহত হন।সে স্হানীয় ক্রিশ্চান কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করে জীবনবীমার এজেন্টের কাজ করতো। তার বিয়েও পাকা।তার মধ্যেই এই ঘটনা।

