মিলন খামারিয়া
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৮ জুন: স্বাধীনোত্তর ভারতে অন্যতম শিল্প সমৃদ্ধ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের ‘শনির দশা’ যেন কাটছেই না। শিল্পের আকাল চলছে বহু বছর ধরে। এক সময় পশ্চিমবঙ্গের ৫৬ হাজার কারখানা বন্ধের কারিগর বামেরা শেষ মুহূর্তে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে শিল্পের দিকে ফের নজর দিলেও শেষপর্যন্ত সেই শিল্প গড়তে গিয়েই তাদের পতন হল। মমতা সরকারের দশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে ভারি শিল্পের আর দেখা নেই। অথচ রাজ্যে বেকারত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
‘বাংলাকে গুজরাট হতে দেব না’- যারা বলেন, তারা ভুলে যান যে গুজরাটে বেকারত্বের হার যেখানে ২.৩% সেখানে বাংলায় বেকারত্ব ১৯.৩%। আপাতত বাংলায় বড় শিল্পের মন্দা কতদিনে কাটবে, সে নিয়ে আশার কিছু দেখা যাচ্ছে না। তাই আত্মনির্ভরশীল হবার চেষ্টা করতে হবে বাংলার মানুষকে। আর সেই চেষ্টায় উৎসাহিত করতেই ‘শূকর পালন’ বিষয়ে একটি অনলাইন ট্রেনিংয়ের আয়োজন করে ‘দেশের মাটি’ ফার্মলোর’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। এই ওয়েবিনারে প্রধানবক্তা ছিলেন ‘উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কোচবিহার কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রাণী সম্পদ-বিষয়বস্তু বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাহুল দেব মুখার্জি।

তিনি জানান যে, প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু সেই তুলনায় তার উৎপাদন কম হচ্ছে। তাই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ‘শূকর পালন’-এ বাংলার যুবক-যুবতীরা এগিয়ে আসতে পারেন। শূকর পালন করে মোটা রকমের মুনাফা করা যেতে পারে বলেও তিনি জানান।
ড. মুখার্জি বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির শূকর পালিত হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম ঘুংরু, ইয়র্কশায়ার, লার্জ হোয়াইট ইয়র্কশায়ার, মিডল হোয়াইট ইয়র্কশায়ার, ল্যান্ডরেস ইত্যাদি। এই সব প্রজাতির শূকর পালন করে বেশ লাভ পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি শূকরের মল-মূত্র চাষের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। শীতপ্রধান দেশে শূকরের লোম বিক্রি করেও অর্থ পাওয়া যায়। বাড়িতে অল্প পরিমাণ শূকর পালনের পাশাপাশি ফার্ম তৈরি করেও পালন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রজাতির চরিত্র অনুযায়ী ঠান্ডা বা স্বাভাবিক উষ্ণতার পরিবেশে রাখা যেতে পারে।শূকর প্রায় সব ধরনের খাবার খেলেও তাকে পরিষ্কার বাসস্থানে রাখা প্রয়োজন।
শূকর পালনের উপকারিতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রাহুল দেব জানান, “শূকরের মাংসের চাহিদা বাজারে ভীষণ ভাবেই রয়েছে। শূকরের মাংস গরম হবার কারণে শীতপ্রধান দেশে প্রচুর চাহিদা হয়েছে। চাহিদা থাকার কারণে শূকর পালন করে প্রভূত অর্থ উপার্জন করা যেতে পারে।”
ভগবান বিষ্ণুর তৃতীয় অবতার ছিল বন্য শূকর। হিরণ্যাক্ষকে বধ করে তিনি ধরিত্রী-দেবীকে উদ্ধার করেছিলেন। বাংলার যুবক-যুবতীরা শূকর পালন করে বেকারত্ব নামক রাক্ষসের হাত থেকে নিজেদের উদ্ধার করতে পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার। এই ওয়েবিনারে সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সংঘমিত্রা মিশ্র। আগামী দিনে ছাগল, গরু, হাঁস-মুরগি পালন বিষয়েও কার্যকরী ওয়েবিনারের আয়োজন করা হবে বলে ফার্মলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

