সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৭ জুলাই: বৃষ্টি নেই। চাষে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রিমিয়াম বহন করবে রাজ্য সরকার। বাংলা কৃষক বিমার এই ধরনের সুবিধার প্রচার শুরু হল পুরুলিয়ায়। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারমূলক ট্যাবলোর উদ্বোধন হল। জেলাশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হল।

খাতায় কলমে বর্ষা এসে গেলেও ভরা শ্রাবণেও বৃষ্টির দেখা নেই পুরুলিয়া জেলাতে। শুকনো ফুটিফাটা চাষের জমি। রুক্ষ পুরুলিয়ায় সেচের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। চাষের জন্য বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকেন কৃষকরা। বৃষ্টির দেখা না মেলায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা গিয়েছে। পুরুলিয়া জেলায় চাষ বলতে শুধু ধান হয়। তাও আবার বছরে একবার। এই জেলায় নদনদী কম। সেচের ব্যবস্থাও তেমন নেই। তাই জেলার কৃষকদের বৃষ্টির ওপরই ভরসা করতে হয়। এ বছর বাংলায় বর্ষা এসে গেলেও, প্রকৃতির কার্পণ্যের কারণে বৃষ্টি হচ্ছে না। এদিকে পুরুলিয়ায় এটাই চাষের মরশুম। বৃষ্টি না হওয়ায় বীজ তলার কাজে হাত দিতে পারেননি কৃষকরা। ধানের চারা জমিতেই মরতে বসেছে। এভাবে চলতে থাকলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা। আকাশের দিকে তাকিয়ে কৃষকরা।

যদিও জেলার উপ কৃষি আধিকারিক জানিয়েছেন, দিন পনেরোর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
এদিন পতাকা নাড়িয়ে ট্যাবলোর যাত্রার সূচনা করেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি, জেলাশাসক রজত নন্দা, জেলা কৃষি আধিকারিক সহ অন্যান্যরা। সভাধিপতি বলেন, “জেলায় এখনও খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবুও আমাদের সরকার চাষিদের পাশে থাকার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। এই কৃষি বিমা তারই প্রমাণ। কোনও প্রিমিয়াম ছাড়াই ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ক্ষতিপূরণ পাবেন এই বিমার জন্য।”

পুরুলিয়া জেলার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থার চিফ অপারেটিং অফিসার অশোক কুমার চক্রবর্তী বলেন, “বিমার সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সরলীকরণ করা হয়েছে। এটা রাজ্য সরকার, কৃষি দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে আমরা করছি।”

