সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ এপ্রিল: ক্ষতিপূরণের দাবিতে চাষিদের বিক্ষোভে বড়জোড়ার ট্রান্সদামোদর খোলা মুখ কয়লা খনির উৎপাদন ও কয়লা সরবরাহের কাজ সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আজ ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা কোলিয়ারির গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান।
খনি লাগোয়া কৃষি জমিতে চাষের কাজে ব্যবহারের জন্য চাষিরা যে শ্যালো পাম্প লাগিয়েছিলেন সেইসব পাম্প কোলিয়ারির মাটি, জল, কাদা ইত্যাদি আবর্জনা পড়ে মাটির তলায় চলে গেছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের। ক্ষতিগ্রস্ত স্যালোগুলির জন্য ২৫ হাজার টাকার দাবি জানান তারা। ইতিমধ্যে ২২ জন চাষিকে স্যালোর জন্য ১০ হাজার করে টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যারা শাসক বিরোধী চাষি তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে গত ২৫ মার্চ সিপিআইএম ঘনিষ্ঠ চাষিরা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ডেপুটেশন দিয়েছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন, ৩১ মার্চের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এই খোলামুখ খনির দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য সরকারের দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেড। সেদিন ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি মতো ৩১ মার্চের মধ্যে তা না পেয়ে মঙ্গলবার সিপিআইএম দলের বড়জোড়া এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুজয় চৌধুরীর নেতৃত্বে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কোলিয়ারির কাজ বন্ধ করে দিলেন।

সুজয় চৌধুরী বলেন, এইসব চাষিরা বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন বলেই তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণটুকুও পাবেন না। অথচ আমাদের কাছে খবর আছে যে, ২২ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছেন যার কোনো ক্ষতিই হয়নি। আমরা দাবি করেছি ওই ২২ জনের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং যারা এখনও ক্ষতিপূরণ পাননি অবিলম্বে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তা না হলে আমরা কোলিয়ারির কাজ বন্ধ করে দেব। এর জন্য যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন দায়ী থাকবেন। কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষকে শ্যালো পাম্পের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করেন এলাকার কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ কিছু ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়েছেন কিন্তু তাদের অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হননি।
কৃষক নেতা সন্তোষ খাঁ, সাগর শিট বলেন, শুধু স্যালো পাম্পের ক্ষতিই হয়নি। পুরো তিন ফসলি জমিই মাটি ও আবর্জনা পড়ে অকৃষিতে পরিণত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বড়জোড়ার বিধায়কের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। তারা দাবি করেন, যে সব জমির ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ না দিলে আমরা কোলিয়ারির কোনও কাজ করতে দেব না।
এ প্রসঙ্গে বিধায়ক অলক মুখার্জি বলেন, আমার বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যেকটি নাগরিকই আমার আপনজন। শাসক বিরোধী বলে কোনো অভিধান আমার কাছে নেই। প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত চাষি যাতে ক্ষতিপূরণ পায় তার জন্য কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অলক মুখার্জি বলেন, কেউ বঞ্চিত হবে না। এটা নিয়ে সিপিআই(এম) নাটক করছে। ৩৪ বছর ধরে যে বন্ধা রাজনীতি করে এসেছে এখন আর তা চলবে না। কোনও ভাবেই কোলিয়ারির কাজ বন্ধ করা যাবে না। এ বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

