আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২১ ডিসেম্বর:
বিঘোরের বেগুন আর তুলাইপাঞ্জি চালের ভাত না খেলে শীতের মরশুম যেন রায়গঞ্জবাসীর কাছে ম্যারম্যারে মনে হয়। শুধু তাই নয়, রায়গঞ্জবাসীর দূর দূরান্তে থাকা আত্মীয় স্বজনদের বিঘোরের বড় বড় বেগুন না পাঠালেই চলে না। উৎকোচ হিসেবেও বিঘোরের বেগুনের চল রয়েছে রায়গঞ্জে। এবছর সেই বিখ্যাত বিঘোরের বেগুন চাষ দেরিতে হলেও ভালোই হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। অন্যান্য বারের তুলনায় চাষ করে লাভের মুখ দেখেছে কৃষকেরা।
উল্লেখ্য, উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের ৮ নম্বর বাহিন গ্রামপঞ্চায়েত লাগোয়া বিহার রাজ্যের কাটিহার জেলা। এই এলাকার বিঘোর সহ বিভিন্ন এলাকায় এই বিশেষ ধরনের বেগুনের ফলন হয়। তবে বর্তমানে রায়গঞ্জ ব্লকের ভিটিয়ার, কুমারজোল, টেগরা, ভিটিকাটিহার, দুপদুয়ার, ছিটমহারাজপুর প্রভৃতি গ্রামেও এই বেগুনের ফলন ভালো হয়। মাটির গুণগতমান ও আবহাওয়ার কারণেই বহু বছর ধরে উত্তর দিনাজপুর জেলার পার্শ্ববর্তী বিঘোর এলাকায় বড় মাপের এই বেগুনের ফলন হয়ে থাকে। আবহাওয়া ও মাটির চরিত্রগত মিল থাকায় রায়গঞ্জ ব্লকের বেশ কয়েকটি এলাকায় এই বেগুনের চাষ হচ্ছে। ভাদ্র মাসে এর বীজ বোনা হয়। তিনমাসের মধ্যে হাফ কেজি থেকে সোয়া কেজি ওজনের বেগুনের ফলন হয়। প্রতিবিঘা জমিতে ৭০- ৮০ কুইন্ট্যাল বেগুন উৎপাদিত হয়। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় ২০- ২৫ হাজার টাকা। এক একটা বেগুন ১ কিলো থেকে ২ কিলো ওজনের হয়ে থাকে। সুদৃশ্য এবং সুস্বাদু বিঘোরের বেগুনের স্বাদ নিতে রায়গঞ্জ শহরের বাজারগুলিতে হামলে পড়েন ক্রেতারা। বছরের এই সময় রায়গঞ্জের বাজারে থরে থরে সাজানো থাকে বিশাল বিশাল আকারের বিঘোরের বেগুন। দামও থাকে একেবারে মধ্যবিত্তের নাগালে। শীতের সময় বাজারে এই সুস্বাদু বিশালাকার বেগুনের দাম থাকে ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কিলো।

বেগুন চাষি সফিকুল হক জানিয়েছেন, এবছর চাষ তুলনামূলক ভাবে ভালোই হয়েছে। এক-একটা বেগুন প্রায় দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত উৎপাদিত হয়েছে। আগে যাতায়াত ব্যবস্থা তেমন ভালো ছিল না। বর্তমানে রাস্তাঘাট ভালো হওয়ায় তাদের সুবিধা হয়েছে। তাদের উৎপাদিত বেগুন উত্তর দিনাজপুর জেলা ছাড়িয়ে মালদা, বালুরঘাট, শিলিগুড়ি এমনকি কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তাতে তারা লাভের মুখ দেখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বেগুন বিক্রেতা প্রদীপ চন্দ্র দাস বলেন, মোটামুটি ভালোই বেগুন বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বারের চেয়ে এবছর দাম কম। বর্তমানে দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি।
অপরদিকে ক্রেতা ভোলা দে জানিয়েছেন, এই বেগুনের ঐতিহ্যই রয়েছে আলাদা। সারা বছর অপেক্ষা করে থাকতে হয়, কারণ শীতকালেই এই বেগুন পাওয়া যায়। এই বেগুন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পদ তৈরি হয়। এবং রায়গঞ্জের বাইরে বহু জায়গায় যায়। এবছর দাম কম হওয়াতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হয়েছে।

