অঙ্কুর না হওয়ার অভিযোগ, গলসীতে কৃষি খামারের ধানবীজ কিনে বিপাকে চাষিরা, ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৪ জুলাই: সরকারি কৃষিখামারের ধানবীজ কিনে বিপাকে চাষিরা। শেষমুহূর্তে ওই বীজ অঙ্কুর বের হয়নি বলে অভিযোগ। আর তার জেরে মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। চলতি মরশুমে আমন ধান চাষে অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে গলসী-১ নং ব্লকের পান্ডুদহ গ্রামের ২০-২৫ জন চাষি। সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে বুদবুদে ব্লক কৃষি আধিকারিকের কাছে বিক্ষোভ দেখালো। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত বিধায়কের আশ্বাসে বিক্ষোভ ওঠে।

ঘটনায় জানাগেছে, গলসী-১ নং ব্লকের বুদবুদে রয়েছে রাজ্য কৃষি বীজ খামার। ব্লক কৃষি দফতর সুত্রে জানাগেছে, চলতি মরশুমে ৩২৫ জন চাষি ওই কৃষি খামার থেকে উচ্চফলনশীল ৩৫-স্বর্ণ ধানের বীজ কিনেছিল। ধানের গুণগত মান ও ফলন খুবই ভালো। ১৩০-১৪০ দিনের মধ্যে ফলন হয়। হেক্টর প্রতি ফলন হয় সাড়ে ৫ টন পর্যন্ত। আর মুনাফার আশায় গত মে মাসে ২৭ টাকা কেজি দরে কৃষিখামার থেকে বীজ সংগ্রহ করেছিল চাষিরা। এদিন পান্ডুদহ গ্রামের ক্ষুব্ধ ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান,” ভালো ফলনের আশায় ২০-২৫ জন চাষি ওই বীজ কিনেছিল। ২০- ৫০ কেজি পর্যন্ত এক একজন চাষি বীজ কিনেছিল।

প্রয়োজন মত জমি তৈরী করে বীজ ফেলা হয়। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে ওই বীজের কোনো অঙ্কুর বের হয়নি। ফলে চরম বিপাকে পড়েছি। এই মুহূর্তে কোথায় বীজ পাবো। কিভাবে তার চারা তৈরী হবে। আদৌ চাষ করতে পারবো কি না, চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছি।” চাষিরা আরও জানান, “বীজতলা তৈরী করতেও যে খরচ সেটাও লোকসান হয়েছে। চলতি বছর আমন ধানের চাষ নিয়ে চরম অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছি। এখন ধান চাষ যদি না হয়, আরও বেশি লোকসান হবে। তাই কৃষি আধিকারিকের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছি।”

ক্ষতিগ্রস্ত চাষি সজল ঘোষ, বাপ্পা মন্ডল প্রমুখ জানান, “সরকারি কৃষি খামারের বীজ এরকম ভুয়ো বের হবে কল্পনাও করতে পারিনি। অনুমান নিম্নমানের নকল বীজ। ধানের বীজ নিয়ে সঙ্কটের মধ্যে পড়েছি। নতুন বীজতলা তৈরী সময় সাপেক্ষ। তাই আদৌ চাষ করতে পারব কি না, তাই নিয়ে অনিশ্চিয়তায় সৃষ্টি হয়েছে।”

চাষিদের দাবি, “বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা বীজতলা তৈরীতে খরচ হয়ছে। সরকারের কাছে ওই খরচের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছি।”

প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি কৃষি খামারের ধান বীজে কেন অঙ্কুর বের হল না? তাহলে কি বীজ ভুয়ো ছিল? না, বীজতলা তৈরীতে ঘাটতি ছিল? কৃষি খামার সুত্রে জানা গেছে, বীজতলার মাটি ঠিকমত তৈরী না হলে এবং ওই মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকলে অঙ্কুর নাও বের হতে পারে। গলসী-১ নং ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তা অরিন্দম দানা জানান, “যে সমস্ত ধানবীজ চাষিদের দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পরীক্ষাগারের রিপোর্ট ভালো ছিল। তাতে ৮২-৮৫ শতাংশ বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার রিপোর্ট ছিল। আরও যে সমস্ত চাষি নিয়েছিল, এরকম বেশ কয়েকজনের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তাদের রিপোর্ট ভাল। 

তারপরও অভিযোগকারী চাষিদের কেন এধরনের ঘটনা ঘটল, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পুনরায় ওই সমস্ত চাষিদের বীজের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের কাছে জানানো হয়েছে।”

গলসীর বিধায়ক নেপালচন্দ্র ঘোরুই জানান, “আমরা চাষিদের পাশে সর্বদা রয়েছি। চাষিদের অভিযোগ মতো গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন বীজের চারা তৈরী করে, কিভাবে পুনরায় চাষ করতে পারে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।” 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *