যাদবপুরের ফরমান আর কুমিরছানার গল্প

আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৮ আগস্ট: এক কুমির মা তার সাত কুমির বাচ্চাকে শেয়াল পন্ডিতের কাছে গচ্ছিত রাখে। আর শেয়ালপন্ডিত একে একে ছয়টিকে খেয়ে একটিকে বাঁচিয়ে রাখে এবং কুমির মা সন্তানের খুঁজ নিতে এলে ধূর্ত শেয়াল একটি কুমিরছানাকে বারবার দেখিয়ে ধোঁকা দেয় মাকে।

এ যেন একই ঘটনা। পাঁচ বছর আগে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, এবার প্রায় সেই নির্দেশিকারই ‘প্রতিলিপি’। যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পর এখন নিয়মিতই নানা নিষেধাজ্ঞার কথা শোনা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মুখে। ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ম, আইডি কার্ডের ব্যবহার, ক্যাম্পাসে নেশার জিনিস নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা— রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু যা যা বলেছেন, ২০১৮ সালে একই নির্দেশিকায় সেগুলো বলা হয়েছিল।

চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য তখন রেজিস্ট্রার ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়মের বেড়াজালে বাঁধার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। আর সবটাই চেয়েছিলেন বিভিন্ন জায়গা থেকে, বিভিন্ন পরিবেশ থেকে পড়তে আসা ছেলেমেয়ের সুরক্ষার স্বার্থে। এবার যেন ২০১৮ সালের সার্কুলারেরই ‘কার্বন কপি’ বের করল যাদবপুর। মিলে যাচ্ছে ‘১৮ সালের নির্দেশিকা।

২০১৮ সালের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত পরিচয়পত্র দেখিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে। এবার অবশ্য সময়সীমা ১ ঘণ্টা বেড়েছে। সকাল ৬টার বদলে সকাল ৭টা হয়েছে সময়সীমা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পরিচয়পত্র দেখিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার নির্দেশিকা আজকের নয়।

প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পাঁচ বছর ধরে নির্দেশিকা মানা হয়নি? যদি মানা হয়, তাহলে এত বড় ঘটনা ঘটল কী করে? প্রশ্ন উঠছে, কর্তৃপক্ষ একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিষ্কৃতি পেয়ে যাবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *