সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৫ জানুয়ারি: পরবের মধ্যেও বিদায়ের সুর পুরুলিয়া জেলার আকাশে বাতাসে। টুসু পুজো ও টুসু গানের আসরে মহিলাদের ভিড় পুরুলিয়ার গ্রামে গ্রামে।
পুরুলিয়া জেলার ঐতিহ্য আদিবাসীদের এক বড়ো পরব টুসু যা আজও গ্রামের মহিলারা করে আসেন। অনেকে মনে করেন টুসু শস্যের দেবী।

এবিষয়ে ঝালদা থানার গোকুলনগর গ্রামের ভবানী মাহাতো , শম্পা মাহাতো ও রাজবালা মাহাতো জানান এই টুসু আমরা এক মাস আগে ঘরে স্থাপন করি। প্রতিদিন সন্ধ্যাতে ফুল ভোগ দিয়ে হয় পূজা এবং মকর সংক্রান্তির দিন হয় বিসর্জন। এই পুজো গ্রামের মহিলারা মিলিত ভাবে করি। কাল জাগরণ করেছিলাম গ্রামের মহিলাদের নিয়ে। সারারাত টুসু গানের আসর বসে। আজ সকালে বিসর্জন হচ্ছে। খুব খারাপ লাগছে টুসু দেবীকে বিসর্জন দিতে।

পুজো শেষে পৌষালি বিজয়ায় ছোট ছোট রঙিন কাগজের চৌডল টুসুর প্রতিভূ হিসেবে নদীতে ভাসানো হয়। ভাসানের টুসু গানে এ অঞ্চলের সমাজ ভাবনাও ফুটে ওঠে। জেলার গা ছুঁয়ে যাওয়া সুবর্ণরেখাই হোক বা বুক চিরে বয়ে চলা কংসাবতী, দ্বারকেশ্বর কিংবা কুমারী হোক অথবা শিলাবতীর উৎপত্তিস্থল শিলাই– পুরুলিয়ার সব নদীতীরেই রং লাগে পৌষ সংক্রান্তির দিনে।

