রাজেন রায়, কলকাতা, ২০ নভেম্বর: সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচনে একের পর এক হারে পর্যদুস্ত রাজ্যের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপি। আর সেই হারের বিশ্লেষণে দলের নেতাদেরই আক্রমণ করে অস্বস্তি বাড়িয়ে একের পর এক বিস্ফোরক ট্যুইট বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের। এরই মধ্যে শনিবার সকালে তথাগত রায়ের আরও একটি বিস্ফোরক ট্যুইট। বিজেপিকে আক্রমণের থেকেও তা আরও বাড়িয়েছে বিজেপি ছেড়ে দেওয়ার জল্পনা।
কি লিখেছেন তথাগত রায় এদিন তাঁর ট্যুইটে? তিনি লিখেছেন, “কারুর কাছ থেকে বাহবা পাওয়ার জন্য আমি ট্যুইটগুলো করছিলাম না। দলের কিছু নেতৃস্থানীয় লোক যেভাবে কামিনী কাঞ্চনে গা ভাসিয়েছিলেন সেটা সম্বন্ধ্যে দলকে সজাগ করার জন্য করছিলাম। এবার ফলেন পরিচয়ছে। পুরভোটের ফলের প্রতীক্ষায় থাকব। আপাতত বিদায়, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি।
অতি সম্প্রতি তিনি ট্যুইটারে এটাও অভিযোগ করেছিলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিট বিনিময়ের ক্ষেত্রে দলের একাংশ অর্থ ও নারী চক্রের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। পুরভোটের আগে সতর্ক হোক বিজেপি।’ এর পরপরই তার বিরুদ্ধেই নারী পাচার ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগ এনে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর করেন হাইকোর্টের আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই তথাগত রায়ের এই ট্যুইট এবং ট্যুইটের শেষ চারটি শব্দ বাড়িয়ে দিয়েছে মারাত্মক জল্পনা।
তাহলে কি দল ছাড়তে চলেছেন তখাগত রায়? না কি ক্রমাগত ট্যুইট আক্রমণ থেকে নিচ্ছেন সাময়িক বিরতি? এই নিয়ে প্রশ্ন করতে সাংবাদিকরা সরাসরি পৌঁছে গিয়েছিলেন তাঁর বাড়িতেই। কিন্তু একাধিক বার প্রশ্ন করা হলেও এই নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
তবে তথাগত রায়ের অবস্থান নিয়ে যতই ধোঁয়াশা থাক, তাঁকে কটাক্ষে বির্ধতে ছাড়েনি ঘাসফুল শিবির। পালটা ট্যুইটে তূণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ষোষ নিখেছেন, ‘বাংলার রাজনৈতিক বিনোদন জগতে এ এক অপূরণীয় সাময়িক ক্ষতি। তিনি যে দক্ষতায় দর্শককে হাঁসাতেন, তাঁর অবদান মানুষ মনে রাখবেন। পাগলা দাশুর নাটকে ‘আবার সে এসেছে ফিরিয়া’-র মত সংলাপের অপেক্ষায় থাকব। তবে কামিনী অংশ বাদ দিলেও কাঞ্চন অংশে সিবিআই, ইডির তদন্তে দাবি থাকলই।
বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর এটা বিজেপির মুষলপর্বের প্রকাশ, মন্তব্য তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের। কাজ করতে না পেরে এরকম অনেকেই বিজেপি ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন, মন্তব্য পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের।
তথাগতের এই ট্যুইট নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি বিজেপির কোনও শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। কিন্তু বিস্ফোরক ট্যুইট করে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা না কি বিজেপির অন্দরের টালমাটাল পরিস্থিতিকে সত্যিই তুলে ধরেছেন তথাগত রায়, সেটা সত্যিই হয়তো বোঝা যাবে পুরভোটের ফলাফলেই।

