করোনাকালে বিচারাধীন বন্দিদের জামিনের দাবিতে বারাসত আদালতে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের বিক্ষোভ

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, ২৩ জুলাই: করোনা আবহে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে মামলা। এর ফলে না হচ্ছে আদালতে বিচার, না হচ্ছে অভিযুক্তদের জামিন। জেলেই আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। এমনই অভিযোগ তুলে শুক্রবার বারাসত জেলা আদালতের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান অভিযুক্তদের পরিবারের লোকেরা। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সুবিচারের দাবিতে চলে স্লোগান।

করোনা আবহে রীতিমতো জমায়েত করে এদিন এই বিক্ষোভ হয়। পুলিশ তা তুলতে গেলে বচসা শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে। এর জেরে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয় আদালত চত্বরে। পরে তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পুলিশ।

জানা গিয়েছে বারাসত, হাবড়া, বনগাঁ, আমডাঙা থেকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল একাধিক ব্যক্তিকে। এদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই রুজু হয় মাদক মামলা। আবার নাবালিকাকে নির্যাতনের মামলাও রয়েছে কারও কারও বিরুদ্ধে। এদের কেউ এক বছর কিংবা দু’বছর ধরে জেলে বন্দি রয়েছে। আবার কেউ জেলবন্দি রয়েছে তার থেকেও বেশি সময় ধরে। যদিও অভিযুক্তদের পরিবারের দাবি, তারা নির্দোষ। পুলিশ মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়েছে তাদের। তাই তারা চাইছেন দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু করোনা আবহে মামলার বিচার প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ। তার জেরে জামিন হচ্ছে না ওই অভিযুক্তদের। তাই সুবিচারের দাবিতে এদিন পথে নামেন অভিযুক্তদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন।

বিক্ষোভকারী রত্না সরকার বলেন, “দেড় বছর ধরে আমার ছেলে জেলে আটকে রয়েছে। ও কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তা সত্ত্বেও মছলন্দপুর থেকে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করেছে। মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ও একজন হার্টের রোগী। মাঝেমধ্যেই ওকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়। কোভিড পরিস্থিতিতে ওর যদি কিছু হয়ে যায়, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি আমরা। আমরা চাই ও যদি দোষী হয়, তাহলে তার বিচার হোক।’’ বিচার ছাড়াই দু’বছর ধরে কেন তাঁর ছেলে জেলে বন্দি রয়েছেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সুর শোনা গিয়েছে পিঙ্কি দাস নামে এক মহিলার গলাতেও। তিনি তাঁর স্বামীর মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এদিন।

যদিও মামলার প্রেক্ষাপটের ওপরই জামিনের বিষয়টি নির্ভর করে বলে জানিয়েছেন বারাসাত আদালতের আইনজীবী আখরু জামাল। তিনি বলেন, “মাদক ও পকসোর মতো গুরুতর মামলায় জামিন দেওয়ার আগে আদালতকে দু’বার চিন্তা করতে হয়। কারণ, এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হলে সমাজে তার প্রভাব পড়তে পারে৷” তবে মামলা যদি গুরুতর না হয় সেক্ষেত্রে জামিন দেওয়া যেতে পারে বলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *