সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৯ নভেম্বর: পুরুলিয়ার পুলিশ সুপারের নামে ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আর্থিক প্রতারণা করার অভিযোগে উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবড়া থানা এলাকা থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম রাহুল ঘটক ও সান্টু মাঝি। তাদের বাড়ি হাবড়া পৌরসভা এলাকায়। ধৃত যুবকের নান সান্টু মাঝি। তার আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গুমলার তেলগাঁওতে। বর্তমানে সে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়াতে থাকত। সে পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। তার সঙ্গী রাহুল ঘটকের বাড়ি হাবড়া পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে। সে আইটিআই’য়ের ছাত্র।শনিবার সকালে পুরুলিয়া জেলার পুলিশের একটি বিশেষ দল হাবড়া পুলিশের সহযোগিতায় তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। আজ তাদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়।
তার আগে বেলগুমা পুলিশ লাইনে সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি জানান, ওই যুবকরা তার ফেসবুক হ্যাক করে। তার পরিচিতদের কাছে বিভিন্ন আর্টিকেল বিক্রি করার নামে প্রতারণা করেছে। এই খবর জানার পর জেলা পুলিশের তরফে সাইবার থানায় গত ৩১ অগাস্ট একটি মামলা করা হয়। সাইবার ক্রাইম থানা তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পুলিশ এই যুবকদের হদিস পায়। তারপরেই গতকাল পুরুলিয়া থেকে সাইবার ক্রাইম শাখার পুলিশ গিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। ৪৬৯/৫০০ আইপিসি ও ৬৬সি আইটি ২০০০ ধারায় মামলা করা হয়। তাদের জেলা আদালতে তোলা হলে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করার কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, “এই ধরনের ফেক অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারকদের থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনও নতুন অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা উচিৎ। আমার নাম করে ওই চক্রটি আমারই পরিচিতদের থেকে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সুবিধা হয়েছিল।” মেসেঞ্জারে মেসেজ পাঠিয়ে প্রতারণা সংক্রান্ত লেনদেনও খতিয়ে দেখছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপারের ওই নকল ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হচ্ছে, সন্তোষ কুমার নামে তার এক সিআরপিএফ বন্ধুর বদলি হয়ে যাচ্ছে। ফলে তার সদ্য কেনা গৃহস্থালির বহু জিনিসপত্র স্বল্প দামে বিক্রি করে দিতে চান। ইচ্ছুক থাকলে যোগাযোগ করুন। মেসেজের প্রেক্ষিতেই অর্থাৎ পুলিশ সুপারের ওই আবেদন শুনে কোনো কিছু না জেনেই মানুষজন ১০ হাজার, ২০ হাজার, ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশেও এই চক্র তাদের কাজকর্ম শুরু করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

