আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৯ মার্চ: হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে শনিবার বেলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো জগদ্দল ও টিটাগড় এলাকায়। শনিবার সকাল থেকেই হলি উৎসবে মেতে উঠেছিল ভাটপাড়া পৌরসভার বিভিন্ন হিন্দিভাসী এলাকা। এদিন সকাল থেকেই ভাটপাড়া পৌরসভায় নিজের বাড়িতে বিজেপি নেতা কর্মীদের সাথে হোলি খেলায় মেতে উঠেছিলেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। এদিন ভাটপাড়ার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘনা মোড় সংলগ্ন সাংসদ অর্জুন সিং’য়ের বাসভবন মজদুর ভবনের সামনে এই হোলি খেলাকে কেন্দ্র করে ব্যপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই ওয়ার্ডের দুই পাড়ার মধ্যে রং খেলাকে কেন্দ্র করে গন্ডগোলের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, সেই সময় ভাটপাড়া পৌর সভার স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সুনিতা সিং’য়ের পুত্র নমিত সিং দলবল নিয়ে ওই গণ্ডগোলের সময় যুবকদের ওপর হামলা চালায়। একে অপরকে টালি ভাঙ্গা ছুড়তে থাকে, সেই টালির ভাঙ্গার আঘাতে জখম হয় বিট্টু যাদব-সহ ৪ জন। এই গন্ডগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জগদ্দল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় র্যাফ। এই গন্ডগোলের ঘটনায় জগদ্দল থানার পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে বলে সূত্রের খবর।
এদিন আহত ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা রং খেলতে গিয়েছিলাম, তখন টালি ভাঙ্গা দিয়ে আমাদের আঘাত করেছে, আমার মাথা ফেটে গেছে। আমরা বিজেপি করি তাই আমাদের মারধর করা হয়েছে। পুলিশ আসল দোষীদের ধরেনি যেহেতু তারা তৃণমূলের নেতা কর্মী।”

এদিন সাংসদের বাড়ির সামনে গণ্ডগোল বাধলে সাংসদ অর্জুন সিং নিজে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই গণ্ডগোল তৃণমূলের নামিত সিং করেছে। ওর বাড়িতে এর আগে বোমা পাওয়া গেছিল, কিন্তু পুলিশ ওকে ধরেনি। আজও নমিত মারধর করেছে কিন্তু ওকে গ্রেপ্তার না করে পুলিশ অন্য ৩ জন কেউ ধরে নিয়ে গেছে। যাদের ধরেছে তারা নির্দোষ। আর পুলিশের এই অত্যাচার কত দিন চলবে সেটাই দেখার।”
অপর দিকে এদিন বেলায় ভাটপাড়ার স্থিরপাড়া বুড়ি বটতলায় দুষ্কৃতীদের বোমাবাজির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভাটপাড়া পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্থিরপাড়া বুড়ি বটতলায় রাস্তার ওপর শনিবার বিকেলে দুষ্কৃতীরা বোমা মেরে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। বোমার শব্দে ঘটনাস্থলের আশপাশ কেঁপে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাইকে চেপে দুইজন দুষ্কৃতী এসে রাস্তার ওপর বোমা মেরে চম্পট দেয়। স্থানীয়দের দাবি, হোলি উৎসবকে ঘিরে কোনওদিন শান্তপ্রিয় এই ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে অশান্তি হয়নি। কিন্তু এলাকায় ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করতে এদিন বোমাবাজি করলো দুষ্কৃতীরা। বোমাবাজির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ভাটপাড়া থানার পুলিশ। যদিও বোমাবাজির কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় বাসিন্দারা। তবে বোমাবাজির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব স্থানীয় মানুষজন।
অপর দিকে রং খেলাকে কেন্দ্র করে বোমাবাজির ঘটনা ঘটল টিটাগড়ে। টিটাগড়ের পিকে বিশ্বাস রোড এলাকাতে রং খেলাকে কেন্দ্র করে বোমাবাজির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মূলত রং খেলাকে কেন্দ্র করে এই বোমাবাজি ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর অনুযায়ী টিটাগড়ের পিকে বিশ্বাস রোডে রং খেলছিল ওই এলাকারই কিছু বাসিন্দা। এরপরে পাশের পাড়া থেকে কিছু যুবক আসে তাদের রং লাগাতে, এই নিয়ে শুরু হয় বচসা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝামেলার আকার নেয়। তারপরেই বোমাবাজি শুরু করে একদল দুষ্কৃতী। দুটি বোমা মারা হয়। বোমার ঘায়ে জখম হয়েছে ৩ জন। এই আহতদের প্রত্যেকেই বলরাম স্টেট জেনারেল হসপিটালে ভর্তি করানো হয়েছে। এই বোমাবাজির খবর পুলিশকে দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নামানো হয় র্যাফ। তবে রং খেলাকে কেন্দ্র করে এই বোমাবাজির ঘটনায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে ওই এলাকায়। এই বোমাবাজির ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা না হলেও অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

