আমাদের ভারত, হাওড়া, ১ আগস্ট: শুক্রবার রাতে এবং শনিবার সকালে ডিভিসি দু’দফায় প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় প্লাবিত হল হাওড়া জেলার উদয়নারায়নপুর এবং আমতা ২ নং ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ। রবিবার সকালে ডিভিসি পুনরায় জল ছাড়ায় সোমবার উদয়নারায়ণপুর এবং আমতার পরিস্থিতি অবনতি হবে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
শুক্রবার রাতে ডিভিসির ছাড়া জল শনিবার রাত থেকেই দামোদর নদের বাঁধ ভেঙ্গে এবং উপচে উদয়নারায়ণপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকতে শুরু করে। প্লাবিত হতে শুরু করে একের পর এক গ্রাম। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর ডিভিসির ছাড়া জলে উদয়নারায়ণপুরের ৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে দুর্গত এলাকা থেকে মানুষদের সরিয়ে ১৯টি ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল আলু শুকনো খাবার বেবি ফুড পানীয় জলের পাউচ পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ডিভিসির ছাড়া জল আমতা ২ নং ব্লকের রূপনারায়ণ ও মুন্ডেশ্বরী নদীর জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। ইতিমধ্যে দীপাঞ্জল, ভাটোরা, ঘোড়াবেড়িয়া, চিৎনানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জলের তোড়ে কুলিয়ার বাঁশের সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় দীপাঞ্চলের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে রবিবার বিকেলে বন্যা কবলিত আমতা ও উদয়নারায়ণপুর পরিদর্শনে যান রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়। তিনি দুটি জায়গায় প্রশাসনিক বৈঠক করার পাশাপাশি উদয়নারায়ণপুরের ত্রাণ শিবিরে ত্রাণ বন্টন করেন। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার জেলাশাসক মুক্তা আর্য, আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল, উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা, হাওড়া জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য, হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সৌম্য রায়, উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক শমীক কুমার ঘোষ।
মন্ত্রী পুলক রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রশাসন সবদিকে লক্ষ্য রাখছে।


