সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৩১ মার্চ: তৃণমূল প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্য ও বাবা শঙ্কর আঢ্যের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদার। অবৈধ কাস্ট, পৌরসভার জমি দখল, আবাসন প্রকল্পে ঘরের টাকা নিয়ে প্রতারণা এবং জল প্রকল্পের নিম্নমান, এরকম একাধিক গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদার। এদিন তাঁর অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে আনেন।
বিধায়কের দাবি, বনগাঁ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি শঙ্কর আঢ্য। তিনি বনগাঁর প্রাক্তন চেয়ারম্যান। “শঙ্কর আঢ্য যখন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তিনি ৫৩৮টি সরকারি ঘর দেখিয়ে ১৯ কোটি টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বনগাঁ থানার সামনে সরকারি পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করেছেন। সেখানে ৯৯৯ বছরের জন্য ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া হিসেবে লিজ দিয়েছেন।”
স্বপন মজুমদার আরও বলেন, এলাকার জল প্রকল্পগুলির মান অত্যন্ত নিম্নমানের, ফলে সাধারণ মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, এই সমস্ত দুর্নীতির পেছনে প্রশাসনের একাংশের মদত রয়েছে। বিজেপি বিধায়ক এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অন্যদিকে, নকল কাস্ট সার্টিফিকেট ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট তৃণমূল প্রার্থী ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেখিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে স্বপন মজুমদার দাবি করেছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্য, “নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে হলে এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা জরুরি। সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেটাই আমাদের দাবি।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে শঙ্কর আঢ্য বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং এর কোনও ভিত্তি নেই। ঘটনাকে ঘিরে বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।

