শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরেই অসুস্থ, শান্তিপুরে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

আমাদের ভারত, নদীয়া, ২৯ জানুয়ারি: শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী ও পুত্রসন্তানকে আনতে গিয়ে বাড়িতে ফিরে হঠাৎ বমি, হাসপাতালে নিয়ে গেলে দু’দিনের মধ্যেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ঘটনাটি শান্তিপুর ব্লকের হরিপুর অঞ্চলের মেথির ডাঙা বাঁধের পাড়া এলাকায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীপেন্দ্রনাথ মন্ডলের(৩২) বিয়ে হয় পাশের একটি গ্রামে। তার শাশুড়ি মাঝেমধ্যেই তার স্ত্রী এবং পুত্র সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। শাশুড়ি তার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেবে বলে জামাই দীপেন্দ্রনাথ মন্ডলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কয়েকদিন আগে একইভাবে দীপেন্দ্রনাথ মন্ডলের স্ত্রীকে এবং সাড়ে তিন বছরের পুত্রসন্তানকে নিয়ে চলে যায় শাশুড়ি। গত ২৬ তারিখ দীপেন্দ্র নাথ মন্ডল শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী ও পুত্র সন্তানকে আনতে যান। রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ বাড়িতে ফিরে হঠাৎই বমি শুরু করেন দীপেন্দ্রনাথ।

এরপর পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে। এরপর চিকিৎসকরা পরিবারকে জানায় দীপেন্দ্রনাথ বিষজাতীয় কিছু খেয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ছটা নাগাদ শান্তিপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এরপর এই রহস্যর দানা বাঁধতে শুরু করে দীপেন্দ্রনাথ এর পরিবারে। দীপেন্দ্রনাথ এর মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। পরিবারের দাবি, তার শ্বশুর বাড়িতেই খাবারের মধ্যে কোনোকিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, না হলে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরেই কিভাবে বমি করে? দীপেন্দ্রনাথকে মাঝেমধ্যেই তার শাশুড়ি চাপ দিত তার স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেবেন বলে। তবে মানসিক অবসাদে নিজেই থ বিষ খেয়েছেন, নাকি শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে এই নিয়ে রহস্যর দানা বেঁধেছে দীপেন্দ্রনাথ এর পরিবারে। যদিও দীপেন্দ্রনাথ এর মৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত শান্তিপুর থানায় কোনও রকম লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *