সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বা়ঁকুড়া, ১৯ জুন:
কানে হেডফোন লাগিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে মেজিয়া থানার তেওয়ারিডাঙা গ্রামে। আজ সকালে তাকে তার শোওয়ার ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন পরিবারের লোকেরা।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুমন কর্মকার (২৬)। সুমনের আত্মঘাতী হওয়ার ব্যাপারে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তার অকাল প্রয়ানে বাবা মা কেউই কথা বলার মত অবস্থায় নেই। স্হানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমনের মা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। বাবা স্থানীয় একটি কারখানার ঠিকা শ্রমিক। কিছুদিন হল সুমনও ওই কারখানায় কাজে যোগ দেন। পাশাপাশি আইটিআই প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। প্রতিদিনের মত শনিবার সন্ধ্যায় নিজের কর্মস্থল থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফেরেন। রাতে খাওয়ার পর নিজের ঘরে শুতে চলে যান।
তাদের প্রতিবেশি সমীর কর্মকার বলেন, রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি দেখে সুমনের মা অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। তারপর ওর জ্যেঠা মশাই জানালা দিয়ে দেখেন দাঁড়িয়ে রয়েছে। উনি ভাবলেন ব্যায়াম করছে সুমন। তারপর তিনিও ডেকে সাড়া না পেয়ে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখেন গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। কানে হেডফোন গোঁজা। খবর দেওয়া হয় মেজিয়া থানায়। পুলিশ এসে সুমনকে নামিয়ে মেজিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের অনুমান, সুমন তার মায়ের শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবং কোনো সরকারি চাকরি না পেয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। আবার অনেকের মতে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়েই সম্ভবত এইভাবে কানে হেডফোন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সুমনের ফোনের কল লিস্ট চেক করে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানতে তদন্ত শুরু করেছে মেজিয়া থানার পুলিশ।

