মেজিয়ার মানাচরে কয়েকশো বিঘা জমিতে অবৈধ পোস্ত চাষ নষ্ট করলো আবগারি দপ্তর

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ৭ ফেব্রুয়ারি: মেজিয়ার মানাচরে কয়েক’শ বিঘা জমিতে অবৈধ ভাবে পোস্ত চাষের হদিশ মিলতেই আজ সকালেই সমস্ত পোস্ত গাছ নষ্ট করে দিল আবগারি দপ্তর।
গত ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে বড়জোড়া ও মেজিয়া থানার এলাকাধীন দামোদর নদের চরে কয়েকশো বিঘা জমির উপর অবৈধ পোস্ত গাছ নষ্ট করেছিল জেলা আবগারি দপ্তর। তারপর আজ ড্রোনের সাহায্য নিয়ে মেজিয়া থানার মানাচরে কয়েকশো বিঘা অবৈধ পোস্ত গাছের হদিশ পায় আবগারি দপ্তর। এদিন সকাল থেকে দামোদরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ট্রাক্টর চালিয়ে মাড়িয়ে দেওয়া হল প্রায় আড়ালে বেড়ে ওঠা অবৈধ পোস্ত গাছ। শুধু আবগারি দপ্তর নয়, আবগারি দপ্তরের পাশাপাশি মেজিয়া ব্লক প্রশাসন ও মেজিয়া থানার পুলিশও সমান ভাবে এই অভিযানে সামিল হয়।

জেলা আবগারি দপ্তরের মুখ্য আধিকারিক তুহিন নাগ জানান, “আমরা গত বছরও অভিযান চালিয়েছিলাম। তখনই এলাকার মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু এই বছর যা দেখা গেল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে এই চাষ হচ্ছে। এই চাষের ফলে দেশের বর্তমান প্রজন্ম নেশার বশীভূত হচ্ছে। আর মাদক মাফিয়াদের অবৈধ কারবার বাড়ছে। তারা চাষিদের টাকার লোভ দেখিয়ে আফিম তথা নিষিদ্ধ পোস্তর চাষ করিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা মুনাফা করছে। তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ পোস্ত চাষ ও অসাধু কৃষকদের  রুখবো”। প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত সেই ভাবে কাউকে আটক করা হয়নি বলে তিনি জানান। কারা এই কারবার ও চাষের সাথে জড়িত তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। তবে এই কারবারে আন্তরাজ্য মাদক চক্র জড়িয়ে আছে কী না তাও খতিয়ে  দেখছে জেলা আবগারি দপ্তর।

জানা গেছে, দামোদরের মানাচরগুলি অত্যন্ত দুর্গম। নদের দুদিকে জলস্রোত আর নলখাগড়ার আড়ালে এই বসতি এলাকা। পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি করা বেশ ঝক্কির। তাই এই সব এলাকা মাদক মাফিয়াদের স্বর্গ রাজ্য। এখানের পলি মাটি চাষের উপযুক্ত। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখানে পোস্ত বা আফিম চাষ করায় মাদক মাফিয়ারা। প্রতি বছর নলবনের ভিতরে কয়েকশো একর এলাকা জুড়ে পোস্ত চাষ হয়। আড়ালে আবডালে এই অবৈধ চাষের কথা প্রকাশ্যে আসে বেশ কয়েক বছর আগে। জানার পর জেলা আবগারি দপ্তর জেলা পুলিশের সাহায্য নিয়ে ব্যবস্থাও নিয়েছে, কিন্তু তা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। প্রতি বছর পোস্ত চাষের মরশুম শুরুর আগে থেকে সতর্ক করা হয়, পোস্ত চাষ করলে কি ধরনের শাস্তি হয় তা জানিয়ে হোর্ডিং, পোষ্টারিং, লিফলেট বিলি সবই করা হয়। তারপরও বন্ধ করা যায়নি এই চাষ। গত বছর থেকে ড্রোনের সাহায্য নিয়ে অবৈধ পোস্ত চাষের এলাকা চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *