নদীর চরে অবৈধ পোস্ত চাষ নষ্ট অভিযান অব্যাহত, দামোদর নদের চরে পোস্তাগাছ ভাঙ্গল আবগারি ও পুলিশ প্রশাসন

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১২ফেব্রুয়ারি: নদীর চর দখল করে অবাধে চলছে পোস্ত চাষ। শনিবার দামোদর নদের চরে এমনই অবৈধ পোস্ত চাষে অভিযান চালালো বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন ও আবগারি দফতর। দামোদরে ন’পাড়া চরে অবৈধ পোস্ত গাছ ভাঙ্গল আবগারি দফতর ও পুলিশ, প্রশাসন।

বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান দুই জেলার সীমানা দামোদর নদ। নদের উপকুলবর্তী চরে বালিমাটির উর্বরতায় চাষাবাদের অন্যতম ভুমি। আর তাতেই গড়ে উঠেছে একাধিক মানাচর। নদীর চরে চলছে আলু, পেঁয়াজ, বেগুন, মুলো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি সহ একাধিক সব্জি চাষ। আর ওই চাষাবাদ দেখে নদীর চরে জবর দখল বাড়ছে। সম্প্রতি একশ্রেণির জমি মাফিয়া ওইসব জমি কব্জা করতে ময়দানে নেমেছে। কোথাও বিকোচ্ছে চড়া দামে। আবার কোথাও পোস্ত চাষে ঝোঁক বাড়ছে। দামোদরের মাঝে বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের অধিনে বেশ কয়েকটি চর তৈরী হয়েছে। গত কয়েকবছর ধরে চরের আয়তনও বেড়েছে। এবার ওইসব চরজমি মাফিয়াদের কব্জায়। নির্জন ওইসব চরে পোস্ত চাষ শুরু হয়েছে।

দুর্গাপুর লাগোয়া হলেও ভৌগলিক মানচিত্র নদীর চর বাঁকুড়া জেলার আওতায়। ওইসব চরে যাওয়ার উপায় নৌকা। এছাড়াও মেজিয়া ব্লকের জপমালি, জংপুর, সারামা, বিহারী মানা, শ্রীরামপুর মানা সহ বেশ কিছু নদীর চরে অবাধে চলছে পোস্ত চাষ। মাদক তৈরী হওয়ায় সরকারি অনুমতি ছাড়া পোস্ত চাষের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আবগারি দফতর সুত্রে জানা গেছে, এনডপিএস অ্যাক্ট -১৮ মোতাবেক পোস্ত চাষ বে- আইনী। ধরা পড়লে ১০-২০ বছরে জেল ও আদালতের নির্দেশ অনুসারে জরিমানা হতে পারে। যদিও এরাজ্যে অনুমোদিত পোস্ত চাষের ক্ষেত্র নেই। প্রশ্ন, তারপরও কিভাবে সরকারি জমি দখল করে চলছে পোস্ত চাষ?

যদিও পোস্ত চাষের খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। মাসখানেক আগে ড্রোন দিয়ে মেজিয়া ব্লক এলাকায় দামোদর নদে চর এরিয়াল সার্ভে শুরু করে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন, আবগারি দফতর। গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার দামোদর চরে মেজিয়া ব্লকের বানজোরা পঞ্চায়েতের জপমালি, জংপুর ও সারামা মৌজায় যৌথ অভিযান শুরু করেছে আবগারি দফতর, পুলিশ ও প্রশাসন। শনিবার বড়জোড়া ব্লকের ন’পাড়া মৌজার প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর ১০ লক্ষ পোস্ত গাছ ভেঙ্গে নষ্ট করে আবগারি দফতরের কর্মীরা। এদিনের চাষ হওয়া ওই সব এলাকা বিপদজ্জনক। নৌকা পথে প্রায় ৩০ মিনিট গিয়ে ওই চরে পৌঁছয় আবগারি দফতরের কর্মীরা। যদিও কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ছিল অভিযানে। তারপর দিনভর চলে অভিযান। বাঁকুড়া জেলা

আবগারি দফতরের সদর রেঞ্জ ডেপুটি কালেক্টর বিশ্বজিৎ ভক্ত জানান, “দমোদরের ওই চরে পোস্ত চাষের খবর পাওয়ার পর এরিয়াল সার্ভে করা হয়েছিল। আবগারি দফতর, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান চলছে। আগামীদিনেও অভিযান জারি থাকবে। এখনও পর্যন্ত মোট সাড়ে ৫০০ বিঘা জমির পোস্ত গাছ নষ্ট করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই দামোদরের চরে সমস্ত বেআইনী পোস্ত গাছ নষ্ট করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *