সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২১ জানুয়ারি: ব্যাতিক্রমী সরস্বতী পুজোয় মেতে ওঠেছে বাঁকুড়ার রতনপুর গ্রাম। প্রাচীন রীতি মেনেই এই গ্রামে একটানা ন’দিন চলে সরস্বতী দেবীর পুজো। উৎসবে মেতে ওঠে এলাকা। তবে এই গ্রামে দেবী একা আসেন না। এতদিন থাকতে হবে এই গ্রামে তাই সঙ্গে নিয়ে আসেন লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক ও ভগবতীকে। দেবীর সঙ্গেই থাকেন তারা। প্রাচীন রীতি মেনে বসন্ত পঞ্চমী থেকেই সরস্বতী পুজো শুরু হয়।
এই পুজোর আরও অনেক ব্যাতিক্রম রীতি আছে যা আজোও বজায় রেখে চলেছেন উদ্যোক্তারা। এখানে মহাপ্রভুকে যে ভোগ নিবেদন করা হয় সেই ভোগই নিবেদন করা হয় দেবী ও অন্যদের। আবার এই ভোগও ব্যতিক্রমী। এই অসময়ে ভোগে দেওয়া হয় পাকা কাঁঠাল। সেই পাকা কাঁঠাল নিয়ে গ্রাম পরিক্রমায় মেতে ওঠে সারা গ্রাম। একেবারে গোড়া থেকেই এই রীতি চলে আসছে।
এই সরস্বতী পুজোয় আরও একটি ব্যতিক্রম আছে। এই গ্রামে মূর্তি তৈরি করে দুর্গাপুজো হয় না। তাই সরস্বতীর পুজোতেই উৎসবের আনন্দ মেতে ওঠেন গ্রামবাসীরা। ওন্দার রতনপুর গ্রামে রাজ্যের এই ব্যতিক্রমী সরস্বতী পুজো হয়ে আসছে প্রাচীন কাল থেকে।

বসন্ত পঞ্চমীতেই শুরু হয় ন’দিনের উৎসব। অঞ্জলি দেওয়া, ঠাকুর দেখা, ভোগ খাওয়ায় শামিল হন সংলগ্ন পাশ্ববর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দারাও। এই এলাকার প্রধান উৎসব সরস্বতী পুজো। রতনপুর গ্রামের দু’ জায়গা দাস পাড়া ও বিশ্বাস পাড়ায় টানা ন’দিন ধরে চলে সরস্বতী পুজো।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, গ্রামের মাঠে রয়েছেন দেবী অম্বিকা। ফলে মূর্তি তৈরী করে দুর্গা পুজোর চল নেই গ্রামে। তাই গ্রামে এই সরস্বতী পুজো ঘিরেই যাবতীয় আবেগ, আনন্দ ও উন্মাদনা। কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন যারা প্রতি বছরের মত তারাও সরস্বতী পুজোয় ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন গ্রামের উৎসবে যোগ দিতে। পুজো উপলক্ষে গ্রামে মেলাও বসে। পুজোয় আয়োজন হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। কদিন আগে থেকেই তার প্রস্তুতি ও মহড়া চলছে। সব মিলিয়ে পুরো রতনপুর গ্রাম এখন উৎসব মুখর।

