জেলায় নজির! পুরুলিয়ায় কাউন্সিলরের সংবর্ধনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আপ্লুত

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৫ সেপ্টেম্বর: একজন সাধারণ পুর কাউন্সিলরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনার অনুষ্ঠান মিলন উৎসবের চেহারা নিল পুরুলিয়ায়। আন্তরিকতা আর শ্রদ্ধা নিবেদন মুহূর্তে পরিবেশটাই পাল্টে দিল ওই অনুষ্ঠানের। তারই রেশ দেখা গেল বক্তব্যে। শিক্ষকতার অর্থ প্রাঞ্জল ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন পুরুলিয়ার সিধো- কানহো- বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক ড: সুবল চন্দ্র দে। পুরুলিয়া পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুনয় কবিরাজের আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও উপস্থিত পরিবার পরিজনদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, “আপনারা যে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তার বিনিময়ে আশা না করাই ভালো। অতিরিক্ত কিছুই চাওয়া পাওয়া নয়, যা পেয়েছি তাতেই সন্তুষ্ট থাকলে মনে প্রশান্তি আসবে।”

বক্তব্যে উঠে এল, একজন ভালো শিক্ষক এটা জানেন। তাই তিনি কখনো তাঁর বেতন অনুপাতে কাজ করেন না। সারা দিন কাজ করলেও তিনি কখনো ওভারটাইমের কথা চিন্তা করেন না। তিনি যা করেন, নিজ দায়িত্বেই করেন। শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাইয়ে দিলেই হয়তো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক খুশি, কিন্তু তিনি কখনোই শুধু পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য পড়ান না। শিক্ষার্থীকে শাসন করলে অজনপ্রিয় হতে পারেন জেনেও তিনি প্রয়োজনে শাসন করতে ছাড়েন না। নিজে পড়াশোনা না করলে কেউ তাঁকে কিছু বলবে না, কিন্তু তিনি সেই সুযোগ নেন না। পরীক্ষার খাতা দেখা কিংবা ক্লাসে ফাঁকি দিলে কারও কিছু বোঝার উপায় নেই, কিন্তু তিনি তা দেন না। এ রকম আরও বহু বিষয় আছে। অর্থাৎ যিনি ভালো শিক্ষক হন, নিজের তাগিদেই হন। জোর করে তাঁর কাছ থেকে কিছু আদায় করা যায় না।

ওই ওয়ার্ডের স্কুল, কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা, মানপত্র, উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। অবসরের বিষাদময় জীবনের ব্যতিক্রম সময় কাটালেন অধিকাংশ শিক্ষকই। তাঁরা জানালেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান আগে কোনো কাউন্সিলর করেননি। এই সব চর্চা সমৃদ্ধ করবে সমাজকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *