আমাদের ভারত, ১২ আজ হাজরার সভা থেকে আবার একবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ডিসেম্বর তত্ত্বর কথা বলে তিনি বলেন, “কোনো দিন বা মাসের কথা বলব না। শুধু বলব সবকা দিন আয়েগা। “তার আরও দাবি দুর্নীতি ইস্যুতে কেন্দ্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বুঝেছেন ঠেলার নাম বাবাজি।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বকুলহাটে তার গাড়িতে হামলাকারী তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বলেছেন গরিব মানুষের ১০০ দিনের টাকা ফেরত দিন। এই ঘটনায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১১ বছর ক্ষমতায় থাকার পর যদি গরিব মানুষের পেট ভোরানার জন্য কেন্দ্রের সরকারের প্রকল্পের টাকার উপর নির্ভর করতে হয় রাজ্যের মানুষকে তাহলে এই মুখ্যমন্ত্রী আর থাকার প্রয়োজন নেই। আমরা সিভিক ভলান্টিয়ারের মতো সিভিক মুখ্যমন্ত্রী রাখব।” এরপর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ১০০ দিনের টাকা যদি চুরি করে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢোকাতে চান তৃণমূলের নেতারা তাহলে সেই ১০০ দিনের টাকা ১০০ বার বন্ধ হবে।
একই সঙ্গে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “বকুলহাটে আমার কর্মীদের গাড়ি যারা ভেঙ্গেছেন তাদের সবাইকে এক লাইনে ক্যাডেট করাবো। হটুগঞ্জে আমাদের কর্মীদের উপরে আক্রমণ করেছে তাদের সবাইকে প্যারেড করাব। কাউকে ছাড়া হবে না। সবারই দিন আসবে। তিনি মনে করিয়ে দেয়, বাংলার সড়ক যোজনা মুছে এখন গ্রামে গ্রামে প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা লিখতে বাধ্য হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথায় বলে খেলার নাম বাবাজি। মমতা ব্যানার্জি বুঝছেন বাবাজি কাকে বলে।”
নিজের গাড়িতে হামলার ছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় একাধিক বিজেপি নেতৃত্বের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে এর আগে। সেই প্রসঙ্গ তুলে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ডায়মন্ড হারবার কি ভারতবর্ষের বাইরে? সেখানে কি ভারতের সংবিধান চলে না? সেই প্রশ্নই আমি রাখতে চাই পুলিশের কাছে। জানতে চাই কিভাবে একজন ভিভিআইপির রুট সাধারণ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের কাছে চলে যাচ্ছে?”
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভাবনীপুরে একধিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, ভবানীপুরে একটার পর একটা পুকুর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দিদিমণির কাউন্সিলর টাকা নিয়ে পুকুর বুজিয়ে ফ্ল্যাট তৈরি করার জন্য দিয়ে দিচ্ছেন প্রোমোটারদের। বস্তিবাসীর কোন উন্নয়ন হয়নি। বস্তিবাসীরা রাত ভয়ে কাটান, কখন তাদের বস্তি দখল করে নিয়ে প্রমোটার ফ্ল্যাট তুলবে আর কমিশনের টাকা খাবে তৃণমূলের নেতারা।
সুকান্ত রাজ্যের খেলাধুলা ক্ষেত্রেও স্বজন পোষনের অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, রাজ্যে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মাথায় মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বসিয়েছেন, যিনি কোনোদিন কিতকিতও খেলেছেন কিনা জানিনা। তাই এরাজ্যে খেলাধুলায় কোন ফল নেই। অথচ মোদী অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মাথায় বসিয়েছেন পি টি ঊষাকে। যার ফল আজ দেশবাসী দেখছে। কতগুলো মেডেল এসেছে দেশে।

