আমাদের ভারত, ১ জুলাই: আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে নজরদারি করা, জনগণের আস্থা নির্মাণ, নাকা চেকিং ও রাজনৈতিক সংঘর্ষকে প্রতিহত করার কাজ করতে বাহিনীকে নিয়োগ করা হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গ নেই। আর কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তির পাল্টা দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর হুঁশিয়ারি বিজেপি কর্মীরাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ করবে।
আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রাজ্য নির্বাচন কমিশন কেন রাখছে না এটা আর আমার বলার প্রয়োজন নেই। সবাই সেটা বুঝে গেছে। ভোট গণনা কেন্দ্রে সমস্ত রকম ভাবে ম্যানুপুলেশনের চেষ্টা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে করা হবে। যেখানে বিজেপি শক্তিশালী সেখানে বুথে আমরাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ করব।”
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় টহল দেবে, নাকা চেকিংয়ের কাজে মোতায়েন থাকবে, মানুষের আস্থা অর্জনের কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক দুই রাজ্যের সীমানায় পাহারা দেওয়ার কাজে লাগানো হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। কিন্তু বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে কি থাকবে না তার কোনো উল্লেখ নেই কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে। ফলে ধরে নেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোনো বুথের নিরাপত্তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে না কমিশন। আদালতের নির্দেশের পরে এ বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনতে বাধ্য হয়েছেন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাকে বুথে রাখছে না কমিশন।
মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে সুকান্ত বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত গড়তে চাই, চোর মুক্ত করতে চাই পঞ্চায়েতকে। তিনি জানান, পুরুলিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মীদের বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কমিশন জানে না। কারণ তারা তৃণমূলের ম্যানুপুলেশনের সঙ্গে থাকতে চায়নি বা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সুকান্ত মজুমদার জানান, তার কাছে খবর আছে, নকল ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ভোট লুট করে নেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, সব জায়গাতেই প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছি আমরা, আগামীতেও তাই করব। তবে এবার জনগণ প্রতিরোধ করবে বলে বিশ্বাস তাঁর।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা, জল জীবন প্রকল্পের মত প্রকল্পগুলিতে কেন্দ্র সরকার কি ভাবে কাজ করেছে তার খতিয়ান তুলে ধরেছেন তিনি। আগামী দিনে বিজেপি সরকার এই প্রকল্পগুলিকে বাংলায় আরো ফলপ্রসূ ভাবে কার্যকর করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

