শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ২৮ আগস্ট: তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারকে গাদ্দার বলেছেন। আর অভিষেকের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার চাঁচাছোলা ভাষায়। তাঁর কথায় সারাদেশ যাদের গদ্দার, দুর্নীতিগ্রস্থ, তোলাবাজ বলে গালাগালি করছে তারাই আবার আজ অন্যদের গায়ে কালি ছেটাতে গদ্দার শব্দটি ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, অভিষেক ব্যানার্জির চেয়ারের ক্ষমতায় পিসির স্টিকার নিয়ে পুলিশকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। তিনি এও বলেছেন মমতার সততা আজ শঠতায় পরিণত হয়েছে।
ফেসবুকে করা একটি দীর্ঘ পোষ্টে সুকান্ত মজুমদার একাধিক বিষয় তুলে ধরে অভিষেক ব্যানার্জিকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন। অভিষেক দিলীপ ঘোষকে গুন্ডা এবং শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারকে গদ্দার বলেছেন। তার উত্তরের সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, রোজ সকাল হলে যে সব গদ্দারদের খবর শুনতে না পেলে সাধারণ মানুষ হতাশ হন তাদের মুখে এসব কথা শুনলে হাসি পায়। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র গদ্দার বলেই থেমে থাকতে হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে, কারণ গদ্দারির কোনো উদাহরণে তিনি দিতে পারবেন না।
বিজেপি নেতা বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের টাকা দুর্নীতি প্রলোভনের ভয় দেখিয়ে আদায় করে বাড়িতে মজুদ করে রাখার গদ্দারি তৃণমূলের নেতা কর্মীরা করেছে। সারা দেশ তৃণমূলের কাছেই শিখেছে কিভাবে চাকরির পরীক্ষায় সাদা খাতা জমা দিয়ে ১৫ লাখ টাকায় চাকরি পাওয়া যায়। দুর্নীতি, গদ্দারির অর্থে বিএমডব্লিউ মার্সিডিজ গাড়ি করে ঘুরে বেড়াতেও তৃণমূল নেতারাই দেখিয়েছেন। দেশের সম্পত্তিকে গদ্দারি করে পাচার করে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কিভাবে তৈরি করতে হয় সেটাও দেখিয়েছেন তৃণমূল নেতারা।
সুকান্ত লিখেছেন, সারা দেশ জানে গদ্দারি করে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক দুবাই বা অন্যত্র কিভাবে টাকা মজুদ করে রেখেছেন অভিষেক। আর সেসবের দেখভালের জন্য ওনাকে চিকিৎসার বাহানায় বারবার বিদেশে পাড়ি দিতে হয়।
তিনি লিখেছেন, “হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ও হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটে কয়েক বছরে একের পর এক প্লট নামে বেনামে কিনে যারা দখল করে রেখেছে তারাই আজ সাধু সাজার চেষ্টা করছে অন্যকে গাদ্দার বলছে।”
সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, গত তিন বছর আগে যখন তিনি সংসদ হয়েছিলেন তখনও তিনি সাধারণ দুকামড়ার বাড়িতে থাকতেন। এখনোও পরিবারের সঙ্গে সেখানেই আনন্দে ও নিশ্চিন্তে রাত কাটান।
তিনি কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসে যখন প্রতিটি বাড়িতে জাতীয় পতাকা তোলা হয়েছে তখন বিদেশে বসে ফেসবুকে জ্ঞানবুলি ভাষণ দিয়েছেন কতিপয় নেতা। তাদের মানুষ খুব ভাল নজরে দেখেনি। সেটাকে গদ্দারি ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
অভিষেকের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে সুকান্ত বাবু বলেছেন, “ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ নিয়ে আসুন। প্রমাণ করে দেখান। আমার সবকিছু খোলাখাতা। আমি তো দেখিয়ে দিতে পারব। কিন্তু আমি নিশ্চিত আপনি তা পারবেন না। তাই গাদ্দার বলার আগে ভেবেচিন্তে বলতে হয়, ক্ষমতার দম্ভে সেটাও আপনার হারিয়ে গিয়েছে।”
একই সঙ্গে অভিষেককে হুঁশিয়ারি দিয়ে সুকান্ত লিখেছেন, তিনি যতখুশি ব্যক্তিগতভাবে তাকে আক্রমণ করুন, অভিষেকের দুর্নীতি, চুরি তোলাবাজির কথা গ্রাম বাংলার শিক্ষিত সাধারণ মানুষের সামনে ঢাকঢোল পিটিয়েই বলে যাবেন। ক্ষমতা থাকলে তার কন্ঠরোধ করে দেখান।
সুকান্ত মজুমদার শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা দিয়েই থেমে যাননি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন। তাঁর কথায়, “রাজ্যের মানুষ ২০১১ সালে পিসির সততার অভিনয় দেখে আশীর্বাদ করেছিল, বাংলায় মসনদে বসার জন্য। সেই সততাও আজ শঠতায় পরিণত হয়েছে। আর আপনি চেয়ারের ক্ষমতায় পিসির স্টিকার নিয়ে পুলিশকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। সেটা গুন্ডাগিরি ছাড়া আর কিছুই নয়।” তিনি মনে করিয়েছেন, সিপিএমের হাতে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মার খেয়েছেন তখন অটলবিহারী বাজপেয়ী তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মন্ত্রী করেছিলেন। কিন্তু সুযোগ বুঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে বিজেপির হাত ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই মিথ্যাচার সুপ্রিম কোর্টে প্রমাণিত হয়েছে। আর এর থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় গদ্দার কে?
সুকান্ত মজুমদার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ছলচাতুরি করে উত্তেজক ভাষণ দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিষেক যাই বলুন না কেন তিনি সবসময় বলে যাবেন, তোলাবাজ ভাইপো। পিসি চোর ভাইপো চোর। তৃণমূলের সবাই চোর। যেটা সত্যি বিজেপির একজন কর্মী হিসেবে এটা বলতে কোনো ভয় নেই।

