শেষপর্যন্ত আদালতের নির্দেশে বিধানসভায় হাজিরা দিলেন ইডি, সিবিআই আধিকারিকরা

রাজেন রায়, কলকাতা, ৪ অক্টোবর: ২২ সেপ্টেম্বর দুই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও ইডির দুই শীর্ষ আধিকারিককে বিধানসভায় তলব করেছিলেন স্পিকার। নারদকাণ্ডের চার্জশিটে মন্ত্রী-বিধায়কের নাম থাকা নিয়েই এই তলব। সূত্রের খবর, সিবিআইয়ের ডিএসপি সতেন্দ্র সিং এবং এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইডি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর রথীন বিশ্বাসকে বিধানসভায় তলব করা হয়েছিল। তাঁদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ বিধানসভায় অধ্যক্ষের ঘরে হাজিরা দিতে চিঠি দিয়েছিল বিধানসভার সচিবালয়।

অবশেষে বিধানসভায় উপস্থিত হলেন ইডি, সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই এই আগমন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা। সিবিআইয়ের ডিএসপি এদিন উপস্থিত হন। সিবিআইয়ের টিম হাজির হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখানে ইডির দুই প্রতিনিধিও আসেন। যদিও সিবিআইকে হাজিরা দিতে বলা হলেও ইডি আধিকারিকদের হাজিরা দিতে বলা হয়নি।

সূত্রের খবর, নারদ তদন্তে রাজ্য বিধানসভার সদস্য বিধায়ক মন্ত্রীদের নামে চার্জশিট দিয়েছে ইডি এবং সিবিআই। নারদ মামলায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং মদন মিত্রের বিরুদ্ধে ইডি চার্জশিট পেশ করে। এরপর ইডির বিশেষ আদালত তাঁদের নামে সমনও জারি করে। সেই সমন স্পিকারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছাতে পাঠানো হয় বিধানসভায়। কিন্তু অভিযোগ, বিধানসভা কর্তৃপক্ষ তা পাঠাতে অস্বীকার করেন। আর এই থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বিধানসভা কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি, দুর্নীতি দমন আইন ১৯ (১) ধারা অনুযায়ী, বিধায়কের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করতে গেলে বিধানসভার অধ্যক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। অনুমতি না নিয়েই রাজ্যের মন্ত্রীসভার সদস্য এবং কয়েকজন বিধায়কের নাম চার্জশিটে রাখা হয়েছে কেন, জানতে চেয়ে তলব করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার সকালেই চিঠি দিয়ে এই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি জানিয়েছিল, তাদের পক্ষে সশরীরে হাজিরা দেওয়া এদিন সম্ভব নয়। ২২ সেপ্টেম্বর হাজিরা না দেওয়ায় সোমবার বিকেল চারটেয় বিধানসভায় হাজির হওয়ার কথা ছিল এই সিবিআই, ইডির প্রতিনিধিদের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই সিবিআইয়ের ডিএসপি এসকে সিংয়ের নেতৃত্বে পাঁচ জন সিবিআই আধিকারিক পৌঁছন। বিধানসভায় ঢুকেই তারা চলে যান বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘক্ষণ এই কথাবার্তা চলে। প্রায় ৩৫ মিনিট অধ্যক্ষের ঘরে ছিলেন তাঁরা। এরই মধ্যে আবার ইডির আধিকারিকরাও এসে পৌঁছন বিধানসভা ভবনে। তাঁরাও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে পৌঁছন। একই সময় ছিলেন তাঁরাও। আইনি জটিলতা এড়াতে এই হাজিরা বলে মনে করছেন অনেকে। সূত্রের খবর, আগামী ৭ অক্টোবর আবারও বিধানসভায় আসবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *