আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৫ জুলাই: ‘ভোট নিয়ে পালিয়ে যাইনি। অনেকে ভেবেছিল শতাব্দী নায়িকা মানুষ। ভোট হয়ে গেলে আর দেখা যাবে না। কিন্তু সেটা হয়নি”। মঙ্গলবার বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের ভদ্রপুর গ্রামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথাই বললেন বীরভূম সাংসদ শতাব্দী রায়।

এদিন নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামে সভা করেন শতাব্দী রায়। বিকেলে ভদ্রপুর গ্রামে সভা ছিল। সেখানেই তিনি মানুষের আস্থা পেতে কাছের মানুষ হওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, “২০০৯ সালে জেতার পর রামপুরহাট এবং সিউড়ি যতবার এসেছি ততবার শ্বশুর বাড়ি যাইনি, মা বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাইনি। ঘুরে ঘুরে কালো হয়ে গিয়েছি। রাস্তাগুলো আমার থেকে অনেক পরিস্কার। বহু নতুন নতুন রাস্তা করেছি। এখানকার মানুষ মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করে সমস্যার কথা বলেন। এমনকি গরু হারালেও আমাকে খুঁজে দেওয়ার কথা বলেন। মনে রাখবেন গরু হারানোর কথা কিন্তু পঞ্চায়েতকে বলতে হবে। আমার কাজ আমি করে যাব”।

শতাব্দী মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মেয়েরা সাধারণত বয়স কমায়। মেয়েদের বয়স বাড়ে না বলে আমরা জানতাম। কিন্তু মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌলতে মেয়েদের বয়স বাড়ছে। মেয়েদের জন্য দেওয়া সরকারি সুবিধা পেতে মেয়েরা মুখে মুখে বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুয়ারে সরকারে গিয়ে এমনই অভিজ্ঞতা হয়েছে। ২৫ বছর বয়স না হলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয় না। এক মহিলা দুয়ারে সরকারে এসে বলছে তার বয়স ২৫ বছর। কিন্তু লক্ষ্মী ভাণ্ডার পাচ্ছে না। আমি যখন তাঁর আধার কার্ড দেখলাম বয়স ২৩ বছর। তখন মেয়েটা বলছে ওটা ভুল করে লেখা হয়েছে। তাই বলি যারা সুবিধা পাচ্ছেন তারা উপযুক্ত কাগজপত্র দিয়ে পাচ্ছেন। যারা পাবেন তারাও উপযুক্ত কাগজপত্র দিয়ে পাবেন।
ভদ্রপুরের সভায় ভালো লোক সমাগম হলেও বারা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের তৈহারপুর গ্রামে লোকসংখ্যা কম হওয়ায় শতাব্দীকে অনেকক্ষণ গাড়ির মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এদিন শতাব্দীর সঙ্গে ছিলেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব ভট্টাচার্য, জেলা পরিষদের প্রার্থী আবু জাহের রানা, শুভাশিস ভট্টাচার্য।

