দিলীপ ঘোষ বিতর্কে জড়ালেও সুকান্ত মাতলেন আদিবাসীদের ধামসা মাদলের তালে, ভাত খেলেন পাত পেড়ে

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ১৬: কুড়মিদের সম্পর্কে মন্তব্য করে যখন বিতর্কে জড়িয়েছেন দিলীপ ঘোষ, তখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার আরেক আদিবাসী সমাজের সাথে একেবারে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেলেন। পা মেলালেন ধামসা মাদলের তালে। দুপুরের খাবার খেলেন আদিবাসী পরিবারের বাড়ির বারান্দায় বসে।

ধনিয়াখালি বিধানসভায় সাংগঠনিক বৈঠকে এসে এলাকার আদিবাসী মানুষদের সঙ্গে নৃত্যের তালে মাতেন সুকান্ত মজুমদার। তার সঙ্গে ছিলেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব। রীতিমতো বাবু হয়ে বসে দুপুরের খাবার খেলেন সুকান্ত মজুমদার, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতারা। অতিথি বাড়িতে এলে, আদিবাসী সমাজের মানুষ যেভাবে আপ্যায়ন করে বিজেপির রাজ্য সভাপতিকেও একই রীতিতে আপ্যায়ন করেন বাড়ির কর্ত্রী। ধামসা মাদল বাজিয়ে রাস্তায় রীতিমতো ফুল ছড়িয়ে সুকান্ত মজুমদারকে নিজেদের এলাকায় নিয়ে যান আদিবাসী সমাজের মানুষ।

তবে এটা প্রথম নয়। আগেও আদিবাসী সমাজের মানুষের হয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে সুকান্ত মজুমদারকে। দন্ডিকাটা কান্ডের প্রতিবাদ তার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। তিনিই ওই ঘটনা সবার সামনে আনেন ও বিষয়টি জাতীয় স্তরে নিয়ে যান, যাতে নির্যাতিত তিন মহিলা সঠিক বিচার পান।

তবে সম্প্রতি বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ কুড়মিদের সম্পর্কে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। যদিও দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। কুড়মিরা দিলীপ ঘোষের বাড়ি ঘেরওয়ের হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, “বাড়ি ঘেরাওয়ের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। আমার মনে হয়, দিলীপ ঘোষের কথা বুঝতে অসুবিধা হয়েছে। কিংবা হয়তো উনি যেভাবে বলেছেন তাতে ওনাদের খারাপ লেগেছে। বিষয়টি বাড়তে দেওয়া উচিত নয়। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি‌।”

কিন্তু অন্য দিকে দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “যে অন্যায় করে সে ক্ষমা চায়। আমি অন্যায় করিনি। ওরা আমার রাস্তা ঘেরাও করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল আমার পথ আটকে গাড়ি ভাঙ্গচুর করেছে। পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর করেছে। আজ কুড়মি আন্দোলনের বেশ কিছু লোক ইচ্ছাকৃতভাবেই একই কাজ করছে।” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “তাহলে কি তৃণমূলের সঙ্গে একটা সম্পর্ক আছে কুড়মিদের? ওনারা বলছেন কুড়মি আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অথচ তারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কেন আটকাচ্ছেন?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *