আমাদের ভারত, ৩ মার্চ: ইরান- আমেরিকা যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই চরম উত্তেজনার মাঝেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অভয় বাণী শোনা যাচ্ছে সরকারি সূত্রে।
উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ভারতের মোট আমদানিকৃত অশোধিত তেলের ৬০% আসে হরমুজ প্রণালী বাদে অন্য বিকল্প রুট দিয়ে। ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের ভাঁড়ারে টান পড়ার ভয় আপাতত নেই।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। এই ডামাডোলের সুযোগে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি এই পথ দিয়ে আসা জাহাজগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি সূত্রে খবর, ভারত যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমানে ভারতের কাছে অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহের অশোধিত তেলের ভাড়ার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোল এবং ডিজেলের মতো প্রয়োজনীয় পেট্রোপণ্য অন্তর্ভুক্ত। এলপিজি এবং এলএনজির ক্ষেত্রেও ভারত এই মুহূর্তে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বিশ্ব তেল পরিবহনের ধমনী। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে মাত্র ৪০ শতাংশ তেল আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বাকি ৬০ শতাংশ আসে অন্যান্য রুট দিয়ে। যা বর্তমান সঙ্কটে ভারতের বড় রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত জরুরি ভিত্তিতে রাশিয়া থেকে আরো বেশি পরিমাণে অশোধিত তেল আমদানি করার কথা ভাবছে বলে খবর। তবে গত মাসের শুরুতেই স্বাক্ষরিত ভারত- আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি না করার অঙ্গীকার ছিল, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আগের চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া থেকে তেল আমদানি জারি রেখেছে দিল্লি। এ বিষয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রতিনিয়ত একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি হোক বা রণকৌশলগত রুট বন্ধ হয়ে যাওয়াই হোক। আগাম সতর্কতা ও বিকল্প ব্যবস্থার দৌলতে ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে এখন কোনো বড়সড় সংকটে পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

