গতকাল এক ছাত্রের মৃত্যুর পরও দামোদরের রনডিহা জলাধারে সেলফি তোলার হিড়িক অব্যাহত

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ জুলাই: টানা ২৪ ঘন্টা তlল্লাশির পর দামোদরে তলিয়ে যাওয়া যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হল। কিন্তু গতকালের দুর্ঘটনার পর আজও দেখা গেল জলস্রোতের কিনারায় সেলফি তোলার হিড়িক। প্রশ্ন উঠেছে জলাধারের নজরদারি নিয়ে।
  
দামোদর নদের ওপর রনডিহা জলাধার। বৃটিশ আমলের তৈরী ওই জলাধারে জলসংরক্ষন ও পলি সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে কৃষকদের। একই সঙ্গে জলাধারের নজরদারি নিয়েও বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। দাবি থাকলেও কার্যত সেসব লালফিতের ফাঁসে আটকে। আর যার মাশুল প্রায় সময় জলাধারে কোনও না কোনওভাবে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। গত দুদিনে দুজন তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়েছে। গত ৫ জুলাই দামোদরের অপরপ্রান্ত বাঁকুড়ার সোনামুখী থানা এলাকায় রনডিহা জলাধারে এক যুবক তলিয়ে যায়। পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার জন্মদিনে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে বছর ১৬ সায়ন কির্তনীয় নামে এক যুবক তলিয়ে যায়। বুধবার দামোদরের কসবা এলাকায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সিভিল ডিফেন্সের দল। সেখান থেকে বুদবুদ থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

বর্ষায় দামোদর ফুলে ওঠে। রনডিহা জলাধারে প্রবল জলস্রোত থাকলেও নজরদারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বড় বড় হরফে সতর্কীকরন বোর্ড টাঙানো রয়েছে। কিন্তু জলাধারে নীচে নামার সিঁড়ি উন্মুক্ত। আর ওই খোলা সিঁড়ি দিয়ে জলস্রোতের কিনারায় গিয়ে সেলফি তোলার হিড়ক পড়ে যায়। আর তাতেই অসাবধানে ঘটে বিপত্তি। অতীতে বহুবার তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কখনও পা ফসকে জলস্রোতে। আবার কখন মোবাইল পড়লে, সেটা তুলতে গিয়ে জলস্রোতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। আবার কখনও মদ্যপ অবস্থায় জলাধারের জলে স্নান করতে নেমেও দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বেশীরভাগই যুবকদের মধ্যে এই প্রবনতা রয়েছে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও রয়েছে সচেতনতার অভাবের পাশাপাশি নজরদারি যেমন নেই। তেমনই দুর্ঘটনা প্রবন হওয়া জায়গার ব্যারিকেড নেই। ফলে জলস্রোতে গিয়ে জলে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জায়গাটি মনরোম পরিবেশ হওয়ায় পর্যটকদের ভিড় থাকে। বিকালের দিকে সুর্যাস্ত ও জলস্রোতের ছবি মোবাইল বন্দি করে রাখার প্রবনতা বেশী থাকে পর্যটকদের। অনেক সময় জলস্রোতের কাছাকাছি যেতে নিষেধ করলেও বহু ‘উৎসুক’ যুবক তোয়াক্কা করে না। তবে কড়া নজরদারির সঙ্গে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া দরকার। একইসঙ্গে জলাধারে নামার জায়গা পাকাপাকি পাঁচিল তুলে সিল করা দরকার। তাতে হয়তো দুর্ঘটনা ঠেকানো যাবে।”

যদিও এবিষয়ে চাকতেঁতুল পঞ্চায়েত প্রধান অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “বহুবার সতর্কীকরন বোর্ড লাগিয়েছি। সেসব তুলে ফেলে দেয়। পিকনিকের মরশুমে নজরদারির ব্যাবস্থা করা হয়। দুর্ঘটনাপ্রবন জায়গা ঘিরে দেওয়া হয়। কিন্তু, সেলফি তোলার নেশায় সেসব বেড়া তোয়াক্কা করে না অনেকে। তবে এবার তারকাটা দিয়ে ঘিরে দেওয়ার চিন্তাভাবনা নেওয়া হয়েছে।”

গলসী-১ নং বিডিও দেবলীনা দাস বলেন, “জলাধারে নিরাপত্তা নিয়ে, স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিকে নিয়ে জরুরি মিটিং ডাকা হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রবন জায়গায় ঘেরা দেওয়ার ব্যাবস্থা করা হবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *