আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১৬ ফেব্রুয়ারি: বছর চারেক আগে রামপুরহাটে সরকারি সভা মঞ্চ থেকে পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তার শিলান্যাস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় গিয়ে ঘটা করে সবুজ ফিতে কেটেছিলেন। কিন্তু এখনও সেই রাস্তার কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ।
রামপুরহাট শহর সংলগ্ন মাগুরা গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা লাল মোরামের। অন্যদিকে জেদুর গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তাও মোরামের। লাল মোড়ামের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ওষ্ঠাগত প্রাণ গ্রামবাসীদের। ধুলোয় নোংরা হচ্ছে পোশাক। ওই রাস্তা সংস্কার করার দাবি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি রামপুরহাট সংলগ্ন পাকুরিয়ার শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের মাঠে সরকারি সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রামবাসীদের দাবি, ওই সভা থেকে রাস্তা নির্মাণের শিলান্যাস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই ঢাকঢোল পিটিয়ে কয়েকদিন পরেই জেদুর গ্রামের কাছে মঞ্চ বেঁধে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো রাস্তার আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস করেছিলেন স্থানীয় বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তারপর ফিরেও তাকাননি কেউ। ফলে ওই ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে অসুবিধার মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে গ্রামের বাসিন্দাদের। বার বার স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে স্থানীয় বিধায়ককে বলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের একাংশর। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সদ্য মুখ্যমন্ত্রী পথশ্রীর জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু সেই বরাদ্দের তালিকায় ওই রাস্তা দুটোর নাম রয়েছে কিনা সেটা নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রশাসন।

রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বিডিও দীপান্বিতা বর্মন বলেন, রাস্তাটি পঞ্চায়েত সমিতির অধীনে ছিল না। কোন দফতরের অধীনে ছিল দেখতে হবে”।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শুভাশিস কর্মকার বলেন, “করোনা অতিমারির কারণে রাস্তার কাজ হয়নি। তবে অর্থের কিছু ঘাটতি ছিল। তবে এখন টাকা পয়সা আসতে শুরু করেছে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাস্তার কাজ করার চেষ্টা করছি।
বনহাট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জহিরুল ইসলাম বলেন, “বড় রাস্তার কাজ পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে করা সম্ভব নয়। কারণ মোটা অঙ্কের টাকা পঞ্চায়েতের হাতে থাকে না। এটা জেলা পরিষদ কিংবা পঞ্চায়েত সমিতির করার কথা। আমরা রাস্তা মাপজোক করে স্কিম পঞ্চায়েত সমিতিতে জমা দিয়েছি। ফলে রাস্তার কাজ কি অবস্থায় রয়েছে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং বিডিও বলতে পারবেন”।

