আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৩ জানুয়ারি: ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের বলিষ্ঠ বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৬ তম জন্মদিন আজ। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান তমলুক শহরের বৈকুণ্ঠ সরোবরের উত্তর দিকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পূর্ণাবয়ব মূর্তির আবরণ উন্মোচন হল আজ। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, তাম্রলিপ্ত শাখার উদ্যোগে মূর্তিটি স্থাপিত হয়েছে।
মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন রাজ্যের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চ্যাটার্জি। এই উপলক্ষ্যে আজ বিকেলে তমলুক সুইমিং ক্লাব প্রাঙ্গণে একটি অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আলোচনা করেন তমলুক বিদ্যাসাগর কৃষ্টি সম্মিলনী’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মানব বেরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি’র রাজ্য সম্পাদক ডাক্তার অশোক সামন্ত, তমলুক পৌরসভার মুখ্য পৌর প্রশাসক দীপেন্দ্র নারায়ণ রায়, কো-অর্ডিনেটর সুব্রত রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মদনমোহন মাইতি। আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশিত হয় অনুষ্ঠানে।

প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চ্যাটার্জি বলেন, সুভাষ বসুর পিতা জানকীনাথ বসু চাইতেন দেশে ইংরেজের শাসন শেষ হোক। তাই প্রচ্ছন্নভাবে হলেও তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত থেকেছেন এবং তার সন্তানগণ যথার্থভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা নিক তা চাইতেন।
মানব বেরা বলেন, বর্তমান মূল্যবোধের সংকটের সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামী থেকে বরেণ্য মানুষদের জীবন সংগ্রাম চর্চা অত্যন্ত জরুরি। স্বাধীনতা সংগ্রামে তমলুকের ভূমিকা এবং সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে তমলুকের ওতপ্রোত সম্পর্ক। বড় মানুষদের জীবনচর্চার মাধ্যমে এলাকায় সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা গড়ে উঠবে। কমিটির এই উদ্যোগে বিশিষ্ট মানুষদের আর্থিক সাহায্যে পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচিত হলো।

উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড: মধুসূদন জানা এবং সম্পাদক শিক্ষক সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় বলেন, তমলুক স্বাধীনতা আন্দোলনে ঐতিহাসিক ভূমিকা গ্রহণ করেছে। সেই স্মৃতিকে বুকে বহন করার লক্ষ্যেই কমিটির পক্ষ থেকে এই উদ্যোগে সামিল হয়েছেন এই শহরের অসংখ্য নাগরিক।

