পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ ডিসেম্বর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে ৩৩ ও ৩৪তম দিনে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ডিওয়াইএফআইয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনসাফ যাত্রা’। মূলতঃ নিজেদের অধিকার, শিক্ষা ও কাজের দাবি, ‘দুর্নীতিবাজ ও দাঙ্গাবাজ’দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা, দেশ ও রাজ্য বাঁচাও এর বার্তা দিয়ে এক মাসের বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইনসাফ যাত্রা। আরও একমাসের বেশি সময় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ঘুরে ২০২৪- এর ৭ জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু হওয়া এই ইনসাফ যাত্রা।

মঙ্গলবার সন্ধেয় কংসাবতী নদীর উপর তৈরি কামখ্যানন্দন ঘোষ সেতু বা ধেড়ুয়া ব্রিজ পেরিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রবেশ করে ডিওয়াইএফআই’য়ের রাজ্য সম্পাদিকা মিনাক্ষী মুখার্জি সহ অন্যান্য বাম যুব নেতৃত্বের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই ইনসাফ যাত্রা। এর আগে ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড়, দহিজুড়ি, ঝাড়গ্রাম ছুঁয়ে আসে ইনসাফ যাত্রা। ঝাড়গ্রাম শহরে সভা করেন মিনাক্ষী মুখার্জি। ‘শহিদ’ শালকু সরেনের মায়ের সাথেও দেখা করেন যুব নেতৃত্ব। ধেড়ুয়া থেকে মেদিনীপুর আসার পথে চাঁদড়া ১ এ অনুষ্ঠিত হয় পথসভা। চাঁদড়া থেকে রাঙামাটি ওভারব্রিজ হয়ে মেদিনীপুর শহরে প্রবেশ করে ইনসাফ যাত্রা। সেখান থেকে মশাল জ্বালিয়ে, লোকবাদ্য সহযোগে কেরানীতলা, ক্ষুদিরাম মোড়, বিদ্যাসাগর মোড়, গান্ধী মোড়, পোস্ট অফিস মোড় হয়ে শহরের পঞ্চুর চকে রবীন্দ্র মূর্তির পাদদেশে পৌঁছায় ইনসাফ যাত্রা। রাস্তায় এবিটিএ, এবিপিটিএ সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পদযাত্রীদের সংবর্ধনা জানানো হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় ইনসাফ সমাবেশ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখার্জি, নাট্যকার বিমল চক্রবর্তী, পদযাত্রী চন্দন সোম, জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারী, সভার সভাপতি সুব্রত চক্রবর্তী প্রমুখ। পদযাত্রা ও সমাবেশে অংশ নেন সংগঠনের সর্রভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য, রাজ্য সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি সাহা, সংগঠনের প্রাক্তনী তাপস সিনহা, সুশান্ত ঘোষ, রবীন্দ্র দেব, সমর মুখার্জি, বিজয় পাল, রনজিৎ পাল, দিলীপ সাউ, কমল পলমল প্রমুখ। সভার সময় কানায় কানায় ভরা ছিল পঞ্চুর চক।

মীনাক্ষী মুখার্জি তাঁর বক্তব্যে তীব্র ভাষায় কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন। সভার শেষে মীনাক্ষীদেবীর সঙ্গে সেলফি তুলতে ভিড় জমান অনেকেই। বুধবার সকাল ন’টা নাগাদ মেদিনীপুর শহরের গোলকুঁয়াচক থেকে শুরু হয় ৩৪তম দিনের পদযাত্রা। সেখান থেকে বটতলা, নিমতলা চক, ভীমচক, জগন্নাথ মন্দির চক, নতুন বাজার হয়ে পদযাত্রা পৌঁছায় আমতলায়। সেখানে ক্ষুদিরাম পার্কে অবস্থিত ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন মীনাক্ষী মুখার্জি সহ অন্যান্যর বাম নেতৃত্ব। আমতলাতেও স্থানীয় বাম সমর্থকদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়। পদযাত্রা ঘিরে বামসমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে মীনাক্ষী অনুরাগীরা তার সাথে সেলফি তোলেন। সেলফি তোলেন সায়ন্তী সিনহা, সম্প্রীতি খাঁড়ার মত স্কুল পড়ুয়া সহ অন্যান্যরা। আমতলা থেকে মোহনপুর ব্রিজ, মোহনপুর চক, সতকুই, চৌরঙ্গী মোড় হয়ে খড়্গপুরে ইন্দায় পৌঁছায় ইনসাফ যাত্রা। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় ইনসাফ সভা। সেখান থেকে কৌশ্যল্যা মোড় হয়ে জমানার পথে পা বাড়ায় ইনসাফ যাত্রা। জমানা থেকে মুন্ডুমারি পদযাত্রা হয় বৃষ্টিকে সাথে করেই বুধবার রাতে বালিচক পোছায় ইনসাফ যাত্রা। বৃহস্পতিবার সেখানে থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে ইনসাফ যাত্রা। ইনযাফ যাত্রা ঘিরে কর্মী সমর্থক ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ দেখে উৎসাহিত পশ্চিম মেদিনীপুরের বাম নেতৃত্ব।

