অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৮ অক্টোবর: জীবন গঠনে মূল্য ভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করলেন ওয়েষ্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং, এডুকেশন, প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উপাচার্য তথা ডায়মণ্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডঃ সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সঙ্গে শুক্রবার তিনি বলেন, মহামারীর শেষ দু’বছর আমাদের সকলের জন্য একটি অ্যাসিড পরীক্ষার মতো ছিল। কেরলের কোট্টায়ামে ঐতিহ্যপূর্ণ সিএমএস কলেজ (২০২০-২০২১ ব্যাচ)-এর বার্ষিক স্নাতক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্নাতক ভাষণে ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি নিজে সেন্ট পলস হাই স্কুলের পড়ুয়া ছিলাম। আমি জানি মিশনারি স্কুলে পড়ার মূল্য। মিশনারি স্কুল এবং কলেজগুলি সর্বদা তাদের শিক্ষার্থীদের মূল্য ভিত্তিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য জোর দেয়। যাঁদের আমি সর্বদা ‘ভবিষ্যতের চ্যাম্পিয়ন’ বলে সম্বোধন করতে ভালোবাসি, আমি নিশ্চিত যে ছাত্ররা আজ স্নাতক হচ্ছেন, তাঁরা নিজেদের ক্ষেত্রেও উৎকর্ষ সাধনের উদ্যোগ নিয়ে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন।
মহামারীর শেষ দুই বছর আমাদের সকলের জন্য একটি অ্যাসিড পরীক্ষার মতো ছিল। কোভিড-১৯ মহামারী হঠাৎ করেই আমাদের উপর নেমে এসে দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমাদের জীবন ও অভ্যাসকে ধ্বংস করেছে। এটি আমাদের জীবন এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে গৃহীত ধারণা, ব্যক্তি এবং সমাজের মধ্যে সম্পর্ক, সামাজিকতার অর্থ এবং মূল্য নিয়ে আমাদের প্রশ্ন তৈরি করে। এই সব ভাবনা পুনর্বিবেচনা করার চ্যালেঞ্জ করে।

২০২০-২০২১ এই দুই বছরে, নভেল করোনা ভাইরাসের বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাবের পরে, শিক্ষা ও শিক্ষাক্ষেত্র একটি অসম পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছিল। এই অভূতপূর্ব সঙ্কট আমাদের শিক্ষকদের পাশাপাশি তাদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ভার্চুয়াল স্থান ব্যবহারের চাপ তৈরি করেছে। ২০২০-র ২৫ মার্চ তারিখে, দেশব্যাপী লকডাউনের খবর সমস্ত শিক্ষক এবং ছাত্রদের কাছে বিস্ফোরণের সামিল হয়ে গিয়েছিল। তা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা স্কুল— যে কোনও প্রতিষ্ঠানেরই হোক না কেন।
দূর থেকে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষাদান করা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প ছিল না। আকস্মিকভাবে শ্রেণিকক্ষ থেকে দূরে সরে যাওয়ার সাথে সাথে, অ্যাকাডেমিক জগৎ ভাবছিল যে অনলাইন শিক্ষার ব্যাপক প্রসার মহামারী পরবর্তী অবস্থায় টিকে থাকবে কিনা এবং এই ধরনের পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী শিক্ষার বাজারে কীভাবে প্রভাব ফেলবে?
সিএমএস কলেজ শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং উন্নয়নের সাথে অগ্রসর হওয়ার জন্য নতুন কিছু ডিগ্রি কোর্স এবং প্রোগ্রাম নিয়ে এসেছে। তা কলা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য বা ব্যবস্থাপনা হোক। বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি এই শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এটি দুর্দান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি এটা দেখে খুশি।
এই কলেজের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গনে স্নাতক ভাষণ দেওয়ার জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ এটি আমার জন্য একটি সৌভাগ্যের বিষয়। এজন্য আমি কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
এর আগে এ দিন ছিল রেভারেন্ড চেরিয়ান থমাসের প্রার্থনা, ভাইস-প্রিন্সিপাল ড: রেনু জ্যাকবের স্বাগত ভাষণ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, মধ্য কেরালা ডায়োসিসের মাননীয় বিশপ রেভারেন্ড ডক্টর মালয়িল সাবু কোশি চেরিয়ানের সভাপতির ভাষণ, অধ্যক্ষ ড: ভার্গিজ সি. জোশুয়ার ভাষণ।
প্রসঙ্গত, ১৮১৭ সালে ইংল্যান্ডের চার্চ মিশনারি সোসাইটি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করে। ভারতের প্রথম কয়েকটি কলেজের মধ্যে একটি এবং প্রথম পশ্চিমা শৈলীর কলেজ হওয়ায়, এটির জ্ঞান সাধনা এবং বৃত্তির সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার রয়েছে। শুধুমাত্র কোট্টায়াম বা তৎকালীন ত্রাভাঙ্কোর রাজ্যের নয়, সমগ্র কেরালার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত চাহিদা পূরণের জন্য দুই শতাব্দীরও বেশি পরিষেবা দিয়েছে। শুরু থেকেই এই প্রতিষ্ঠান একটি অগ্রগামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ।

