সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুড়া, ১৯ অক্টোবর: উত্তর বাঁকুড়া বনবিভাগের বড়জোড়া এলাকাজুড়ে হাতির তাণ্ডব অব্যাহত। হাতির হানায় বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে অথচ বনদপ্তর উদাসীন এই অভিযোগে আজ সকালে বড়জোড়া রেঞ্জের সংগ্ৰামপুর বীট অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হলেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। একই অভিযোগে সোমবার বড়জোড়া রেঞ্জের বেলুট গ্রামের ক্ষিপ্ত চাষিরা রেঞ্জ অফিসারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। আজ মঙ্গলবার সংগ্রামপুর বিট অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন গদারডিহি, বহড়াখুল্যা, সরাগাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। এই গণবিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন হাতি সমস্যা সমাধানের জন্য গড়ে ওঠা সংগঠন সংগ্রামী গণমঞ্চের কর্তা ব্যক্তিরা। শেষমেষ বড়জোড়ার বিধায়ক এসে ক্ষিপ্ত চাষিদের শান্ত করে বিট অফিসারকে নিয়ে আলোচনায় বসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সরাগাড়ার বাসিন্দা সুভাষ বাউরি বলেন, গত ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ৮০-৮৫ টি বুনো হাতি তাণ্ডব চালাচ্ছে। চাষিদের পেটের রসদ সাবাড় করছে, বাড়ি ঘর ভাঙ্গছে, ফসলের মাঠ তছনছ করছে। অন্যদিকে বন দফতরের কর্তারা পুজোর উৎসবের আমেজ উপভোগ করছেন।
বহড়াখুল্যা গ্রামের বাসিন্দা প্রদ্যুৎ আখুলি বলেন, রবিবার সারারাত ধরে বেলুড় গ্রামের ৫০ – ৬০ বিঘা আমন ধান মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার পর সোমবার রাতে বহড়াখুল্যা, গদারডিহি, সরাগাড়া প্রভৃতি গ্রামে আরও প্রায় ৭০-৭৫ বিঘা জমি মাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের সারা বছরের আয়ই তো চাষের উপর।
গদারডিহি গ্রামের কৃষক পরেশ কর্মকার বলেন, এবার ধানের ফলন ভাল হয়েছিল, কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। ওই ধানের আয় থেকেই আমাদের খাওয়া-পরা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সবই করতে হয়।
বিক্ষোভকারী কৃষকদের দাবি, যে টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয় তা ফসলের ন্যায্য দামের ২৫ শতাংশও নয়। সেই টাকা আদায় করতে বিরাট হ্যাপা পোহাতে হয়, সেই নাজেহাল অবস্থায় মনে হয় ক্ষতিপূরণ চাওয়াটাই বোধহয় বড় অপরাধ। ঘেরাও চলাকালীনই আসেন বিধায়ক অলক মুখার্জি। বিট অফিসারের সঙ্গে আলোচনার শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বনদপ্তরের সাথে কথা হয়েছে, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে বলেন, গত ২২ বছর ধরে হাতি তাড়াচ্ছি। এতগুলি হাতি রাস্তা দিয়ে পার হওয়ার সময় পথে যে ক্ষতি হবে সেটাই বিশাল। বনদপ্তর কথা দিয়েছে আজ থেকেই সেন্ট্রাল ড্রাইভ শুরু করা হবে যাতে হাতি গুলিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিট অফিসার পূর্ণ টুডু বলেন, নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে বলা হয়েছে চাষিদের। তিনি জানান, এদিন সন্ধে থেকে বা বুধবার সকাল থেকেই সেন্ট্রাল ড্রাইভ শুরু হবে।
এ প্রসঙ্গে সংগ্রামী গণমঞ্চের জেলা সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জি বলেন, সেই তো ড্রাইভ শুরু করছে বনদপ্তর, কিন্তু শুরুতেই যদি তা করা হতো তাহলে বিঘার পর বিঘা জমির ধান নষ্ট হত না। চাষিরাও দেনা মাথায় নিয়ে অসহায় ভাবে দিন কাটাতে বাধ্য হতেন না। তার দাবি, চাষিরা ক্ষিপ্ত না হলে হয়তো বনকর্তাদের ঘুমই ভাঙতো না। আর যাতে কোনও ক্ষতি না হয় সেদিকে ঠিক রেখে হাতি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক বলে দাবি করেন সংগঠনের সভাপতি পূর্ণেন্দু সরকার।

