জে মাহাতো, ঝাড়গ্রাম, ১ আগস্ট: জঙ্গল এলাকায় যত্রতত্র হোম স্টে, ভিলেজ রিসোর্ট এবং বসতি গড়ে ওঠার ফলে হাতির দল স্বাভাবিক যাতায়াত করতে পারছে না। এরজন্য যাতায়াতের পথে বাধা পেয়ে জঙ্গল মহলে হাতির হানা বাড়ছে বলে মনে করছেন বনকর্তারা। এইভাবে হাতি করিডরগুলি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তারা অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসছে এবং জনতার তাড়া খেয়ে হাতিদের স্বভাবেও পরিবর্তন ঘটছে। মানুষ দেখলেই তেড়ে গিয়ে হামলা চালাচ্ছে। এভাবেই হাতির হানায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে জঙ্গলমহলে।
ইদানিং জঙ্গলমহলে আসা পর্যটকদের হাতি দেখানোর টোপও দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে হাতি ও জঙ্গল সম্বন্ধে অনভিজ্ঞ পর্যটকরা হাতি দেখতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ছেন। কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া সাঁকরাইলে হাতির হানায় পর্যটকের মৃত্যু ঘটনার পর সোমবারও ঝাড়গ্রামে মৃত্যু হয়েছে দেবাংশু আগরওয়াল নামে কলকাতার এক পর্যটকের। হাতিদের যাতায়াতের পথে গড়ে ওঠা হোম স্টে থেকে হাতি দেখানোর টোপ দিয়ে গাইড হিসেবে পর্যটকদের সঙ্গী হয়ে অনেকেই পয়সা রোজগারের চেষ্টা করছেন বলে বন কর্মীদের একাংশ দাবি করছেন।

করোনার প্রভাবে গত দেড় বছর ধরে বিপর্যয়ের মুখে পড়া জঙ্গলমহলের পর্যটন ব্যবসাকে কিছুটা হলেও চাঙ্গা করতে ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, জামবনি, বেলপাহাড়ি, ঝাড়গ্রাম ও লোধাসুলি এলাকায় জঙ্গলের ধারে প্রচুর ভিলেজ রিসোর্ট ও হোম স্টে তৈরি হয়েছে। এগুলি তৈরি করার ক্ষেত্রে কলকাতার বিভিন্ন সংস্থা বিনিয়োগ করেছে। সোমবার কলকাতার দুই যুবক ঝাড়গ্রামের নেদাবহড়া এলাকার জঙ্গলে হাতি দেখতে গিয়ে হাতির কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে হাতির সঙ্গে সেলফি তুলছিলেন। সেই সময় দেবাংশু আগরওয়াল হাতির হানায় প্রাণ হারান। তারা ঝাড়গ্রাম শহরের কিছুটা দূরে একটি রিসোর্টে উঠেছিলেন।
ঝাড়গ্রামের বিভাগীয় বন আধিকারিক শেখ ফরিদ জানিয়েছেন, জঙ্গলে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও পর্যটকরা কিভাবে জঙ্গলের ভিতরে চলে যাচ্ছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বনবিভাগের কর্মীদের অভিযোগ, পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য হাতির যাতায়াতের পথে অপরিকল্পিত ও বিপদজনক ভাবে রায়তি জমির উপর তৈরি করা হচ্ছে রিসোর্ট ও হোম স্টে। হাতির যাতায়াতের পথে এভাবে রিসর্ট তৈরি করা এবং জঙ্গলে হাতি দেখতে যাওয়ার পাশাপাশি হাতির সঙ্গে সেলফি তোলার প্রবণতা আত্মহত্যার সমতুল। কিন্তু পঞ্চায়েত দপ্তরের অনুমতি নিয়ে রায়তি জমির ওপর হোম স্টে কিম্বা রিসোর্ট গড়ে উঠলে তাদের কিছু করার নেই বলে বনদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে। এর ফলে সমস্যা সমাধানে বড়সড় বাধা দেখা দিয়েছে। এভাবে জঙ্গলে রিসর্ট, হোম স্টে এবং জনপদ গড়ে ওঠায় সংকুচিত হচ্ছে হাতিদের স্বাভাবিক যাতায়াতের পথ। ফলে ওই পথ দিয়ে যখন হাতির দল যাতায়াত করার চেষ্টা করছে তখন তারা দিনের পর দিন মানুষের তাড়া খাচ্ছে এবং আত্মরক্ষার জন্য মানুষ দেখলেই তেড়ে আসছে। দিনের পর দিন শুধু পর্যটকদের ক্ষেত্রে নয় জঙ্গলমহল এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও হাতিকে বিরক্ত করা বা তাদের আশপাশে যাওয়া অত্যন্ত বিপদজনক বলে বনদপ্তরের আধিকারিকরা মনে করছেন।

