জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৬ ফেব্রুয়ারি: শালবনী থানার ভাদুতলার জঙ্গল থেকে একটি দাঁতাল হাতি বৃহস্পতিবার রাতে মেদিনীপুর শহরে ঢুকে পড়ায় হুলুস্থূল কাণ্ড বেঁধে যায়। শহরের অলি গলিতে মানুষের ছোটাছুটি ও শোরগোলে অতিষ্ট হাতিটি এলোপাথাড়ি দৌড়াতে থাকে শহরময়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বনদপ্তর এবং হুলা পার্টি সহ রাস্তায় নামে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ। মাইকে ঘোষণা করে জনতাকে বারংবার রাস্তাঘাট ফাঁকা করে দিয়ে বাড়ি ঢুকে যেতে বলা হয়। বনদপ্তরের আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান খড়্গপুর গ্রামীন এলাকার মাদপুরের দিক থেকে দলছুট ওই হাতিটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যের দিকে গ্রামীন মেদিনীপুর হয়ে শালবনী থানার ভাদুতলার জঙ্গলে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু জঙ্গলে পড়ে থাকা শুকনো পাতায় লাগানো আগুনের কারণে পিছু হঠে মেদিনীপুর শহরে ঢুকে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে দাঁতালটিকে মাদপুরের দিকে দেখা গিয়েছিল।
পুলিশের কর্তারা জানিয়েছেন, মনে করা হচ্ছে ওই দাঁতালটি ৬০নম্বর জাতীয় সড়কের পাশাপাশি এলাকা ধরে মেদিনীপুর শহরের হবিবপুর হয়ে বিজয় সাহার গলি ধরে শহরে প্রবেশ করেছে। হাতিটিকে এরপর পঞ্চুর চক ও মেদিনীপুর কলেজের সামনে দিয়ে মেদিনীপুর কলেজ ও কলেজিয়েট মাঠে প্রবেশ করতে দেখা যায়। সেই সময় পঞ্চুর চক ও কলেজের সামনের জনতা হৈ চৈ শুরু করে পালাতে থাকে।
এদিকে জনতার শোরগোল আর চোখ ধাঁধানো আলোয় অপরিচিত জায়গায় হাতিটিও দৌড়াতে থাকে প্রাণপনে। এরপর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ধরে ঢুকে পড়ে নান্নুরচক, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের রাস্তায়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন বনদপ্তরের বাহিনী, হুলাপার্টি সহ উচ্চপদস্থ কর্তারা। আসে পুলিশও। হুটার ও সাইরেন বাজিয়ে সতর্ক করা হয় জনতাকে।

এদিকে কয়েকশো উৎসাহী মানুষ ছুটতে থাকে হাতির পেছনে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়ে হাতিটি উন্মত্তের মতো আচরণ করতে থাকে। অবস্থা সামাল দিতে রাস্তায় নামেন পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অম্লান কুসুম ঘোষ। বিশাল র্যাফ বাহিনীর সঙ্গে হাতে মাইক নিয়ে তিনি জনতাকে অনুরোধ করেন হাতির কাছ থেকে সরে যেতে। শহরবাসীকে অনুরোধ করা হয় রাস্তাঘাট দোকানপাট ছেড়ে অবিলম্বে ঘরে ঢুকে যেতে।
এদিকে বনদপ্তরের কর্তাদের মাথায় হাত পড়েছে। শালবনীর ভাদুতলার জঙ্গলে দাউ দাউ করে জ্বলছে অমূল্য শাল গাছ। ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক বরাবর আগুন ছুটছে গোদাপিয়াশাল জঙ্গলের দিকে। কোটি কোটি টাকার গাছ পুড়ে যাওয়ার উপক্রম তখন। উত্তুরে হওয়ার দাপটে সেই আগুন বেড়েই চলেছে। কিছুতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাতিকে মেদিনীপুর শহরের উত্তরের সমান্তরাল পথের পরিবর্তে পূর্ব দিকের তাঁতিগেড়িয়া অথবা রাঙামাটি হয়ে চাঁদড়ার জঙ্গলে ঢোকানোর চেষ্টা করার কথা ভাবা হয়। সেক্ষেত্রে রেললাইন পার করতে রেলের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হয়। সন্ধ্যে সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নটা পর্যন্ত হাতিটি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে অবস্থান করে। ঠিক সাড়ে আটটা নাগাদ মেদিনীপুর কলেজে প্রবেশ করেছিল দলমার দাঁতাল। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বনকর্মীরা যদিও মেদিনীপুর কলেজ থেকে হাতিটিকে বের করেন, পথ না পেয়ে এবার পৌঁছে যায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে পরিত্যক্ত একটি বাগানে লুকিয়ে থাকে আতঙ্কিত বুনো হাতিটি। অবশেষে, ঘুমপাড়ানি ওষুধ (ট্রাঙ্কুলাইজার) প্রয়োগ করে ধীরে ধীরে তাকে বশে আনা হয়। ভোর ৩টে নাগাদ ছেড়ে আসা হয় চাঁদড়ার নিরাপদ গভীর জঙ্গলে।

