সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১১ ফেব্রুয়ারি: বিষ্ণুপুরের হিংজুড়ি গ্রামে হাতির হানায় বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা। তারা ফসলের ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব।মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে ১০টি হাতির একটি দল দ্বারকেশ্বর নদ পার হয়ে বিষ্ণুপুরের হিংজুড়ি এলাকায় ঢুকে পড়ে। সেখানে আলু, সবজি সহ বিভিন্ন শষ্য চাষের জমিতে ঢুকে পড়ে। ফসল খেয়ে ও মাড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে হাতির দল। বুধবার সকাল থেকেই প্রতিবাদ, হাতি খেদানোর এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হন গ্রামবাসীরা।
হিংজুড়ি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে অন্তত ১০টি হাতি আলু, কপি, টমেটো, পেঁয়াজ, মুসুর ডাল-সহ সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ফসল বাঁচাতে রাতেই তারা চাষের জমি থেকে হাতির দলটিকে ধাওয়া করে। এতে হাতির দলটি ফের দ্বারকেশ্বর নদ পার হয়ে জয়পুরের জঙ্গলের দিকে চলে যায়।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে হিংজুড়ি এলাকার অন্তত পঞ্চাশ বিঘা কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই হিংজুড়ি এলাকা কৃষি নির্ভর। ঋণ নিয়ে চাষবাস করেন তারা। সেই উপার্জনেই চলে সংসার, চিকিৎসা ও পড়াশোনা সবকিছুই। তাই বাধ্য হয়েই ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হয়েছেন। বন দফতর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দিলে সমস্যায় পড়বেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে হাতির হানায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ণ করেই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে বন দফতর। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকায় অনেক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রয়েছে। বন থেকে হাতির দল লোকালয়, গ্রাম সংলগ্ন এলাকা ও চাষের জমিতে ঢুকে পড়ায় তাদের ক্ষতি হচ্ছে। বনদপ্তরের উদাসীনতার অভিযোগ করেছেন তারা।

