সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৪ সেপ্টেম্বর: বেলিয়াতোড়- বড়জোড়ার জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় ফের হাতির হানায় আতঙ্কিত গ্ৰামবাসীরা। সেই আতঙ্ক আরও জোড়ালো হয়েছে এক বাচ্চা হাতির মৃত্যুতে।শিশু হাতির মৃত্যুতে হাতির দল আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে এমনই ধারণা গ্ৰামবাসী থেকে বনকর্তাদের।
গত ১০- ১২ দিন আগে ঝাড়খন্ড থেকে একদল বুনো হাতি ঝাড়গ্রাম হয়ে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মহকুমার পাঞ্চেত বিভাগের এলাকায় দাপিয়ে বড়জোড়া বেলিয়াতোড় এলাকার পাবয়ার জঙ্গলে এসে ঘাঁটি গেড়েছে। এই হাতিগুলি রোজ রাতে জঙ্গল লাগোয়া গ্রাম গুলিতে হামলা চালাচ্ছে। এনিয়ে বিস্তর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে হাতি উপদ্রুত এলাকায়। এরই মধ্যে আজ সকালে পাবয়ার জঙ্গলের ভিতরে অবস্থিত গোঁসাইপুর গ্রাম লাগোয়া ফাঁকা মাঠে একটি বাচ্চা হাতির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বাসিন্দারা ঘটনার কথা জানিয়ে বন দফতরে খবর দেন। কিভাবে একটি সুস্থ সবল বাচ্চা হাতির মৃত্যু হল এনিয়ে বাসিন্দারা কেউ কিছু না জানালেও প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে হাতিটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। কিন্তু কিভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হল তা নিয়ে বন দফতর, জেলা বিদ্যুৎ বিভাগ ও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হাতির কবল থেকে এলাকার মানুষ মাঠের ফসল বাঁচাতে বিদ্যুৎবাহী জিআই তার দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখে। এতে পূর্ণ বয়স্ক হাতিরা অল্প ছোঁয়া পেলেই সরে আসে। তা সত্বেও এর আগে বেশ কয়েকটি হাতি তড়িতাহত হয়ে মারা গেছে। এই হস্তি শাবকটি বিদ্যুতের শক সহ্য করতে পারেনি বলেই প্রাথমিক অনুমান। কিন্তু ঘটনাস্থলে কোনো রকম বিদ্যুৎবাহী তার দেখা যায়নি।

গোঁসাইপুর গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাদাস ধাড়া বলেন, সকালে দেখি একটি বাচ্চা হাতির মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। তাকে ঘিরে রয়েছে আরও ১০-১২ টি দাঁতাল হাতি। কিছুক্ষণ পর হাতির দলটি সরে গেলেও মা হাতিটি বাচ্চাকে শুঁড় দিয়ে আদর করছে আর থেকে থেকে চিৎকার করে উঠছে। বন কর্তারা আসার পর মা হাতিটি সরে যায়। বাচ্চা হাতিটি কি করে মারা গেছে সে বিষয়ে দুর্গাদাস ধাড়া বলেন, বলতে পারব না। তবে হাতিটি মারা যাওয়ায় আমরাও খুব যন্ত্রণা অনুভব করছি।
বাঁকুড়ার হাতি গুলিকে নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য বন মন্ত্রকও। ঘনঘন এ নিয়ে বৈঠক বসছে। রাজ্য বন মন্ত্রকের চিফ কনজারভেটিভ অফ ফরেষ্ট এস কুনাল ডাইভাল এদিন বাঁকুড়াতেই রয়েছেন। হাতি সমস্যা নিয়ে দ্রুত কি পরিকল্পনা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে বিষ্ণুপুরে সংশ্লিষ্ট দফতর গুলিকে নিয়ে জরুরি বৈঠক রয়েছে। হাতি মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গোঁসাইপুর গ্রামের ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কোনও চিহ্ন পড়ে না থাকলেও মনে হচ্ছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মৃত্যু হয়েছে। রাতে ফসলের মাঠের স্যালো পাম্প থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে তার ঘেরা হয়। সকালে তা খুলে নেয়।
তিনি বলেন, আমরা এখনই এতবড় প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না। তার কথায় মানুষকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এই হাতির দলটি ভীষণ অ্যাগ্রেসিভ। ঝাড়খন্ড ও ঝাড়গ্রাম এলাকায় ৭ – ৮ জন মানুষ মেরেছে এরা। এখন বাচ্চা মারা যাওয়ায় আরো অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠবে। সকলকে সতর্ক করার জন্য সংবাদ মাধ্যমকেও প্রচারে জোর দিতে বলেন তিনি। হাতিটির বয়স ৮ মাসে বলে জানান তিনি। শ্রী ডাইভাল বলেন, ময়নাতদন্তের পর হাতিটিকে বেলিয়াতোড় বন বাংলোয় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওখানেই সমাধিস্থ করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্ৰহভ করা হবে বলে তিনি জানান।

