আমাদের ভারত, ২৯ এপ্রিল: একদিকে তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। আর এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে চরম বিদ্যুৎ সংকট দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার দিল্লি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মাত্র একদিনের কয়লা মজুদ রয়েছে। ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে, বিপর্যস্ত হতে পারে হাসপাতাল, মেট্রোর মত জরুরী পরিষেবাও।
শুক্রবার সকালে দিল্লির বিদ্যুৎ মন্ত্রীর সত্যেন্দ্র জৈন জানান, দিল্লি সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে একদিনের বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো কয়লা মজুদ নেই। ফলে শহরজুড়ে বড়সড় ব্ল্যাক আউট হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন গোটা দেশের অবস্থা ভয়াবহ। দ্রুত কোনও একটা সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে হবে। তাপমাত্রার পারদ চড়ছে স্বাভাবিকভাবেই দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু দেশের অধিকাংশ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে কয়লা মজুদ না থাকায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।
মহারাষ্ট্র রাজস্থান সহ একাধিক রাজ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, কয়লা সংকটের মাঝেও রাজ্য কোনওভাবে এতদিন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। কিন্তু এই সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত। গোটা দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। সকলকে একযোগে মিলিত হয় কোনও সমাধান সূত্র বের করতে হবে। এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য দ্রুত কোন মজবুত পদক্ষেপ করা উচিত।
দিল্লির বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানিয়েছেন, কমপক্ষে ২১ দিনের কয়লা মজুদ থাকা উচিত। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের কাছে তাদের আর্জি তাদের কাছে কোনো ব্যাকআপ নেই কারণ বিদ্যুত সংগ্রহ করে রাখা যায় না। তাদের তরফে কোনও টাকা বকেয়াও নেই। তাদের দাবি, কেন্দ্রের উচিত কয়লার বরাদ্দ বাড়ানো।
রাজস্থানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কয়লা সরবরাহ নেই ফলে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকট মেটাতে রেল মন্ত্রকের তরফে কয়লাবাহী মালগাড়ি যাতায়াতের জন্য একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক। আগামী ২৪ মে পর্যন্ত মোট ৬৭০টি ট্রেন বাতিলের ঘোষণা করা হয়েছে। রেল জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কয়লা পাঠানো হবে বিভিন্ন রাজ্যে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বাতিল ট্রেন চালু করা হবে।

