UPS, IAS, EC, ৫ রাজ্যে নির্বাচন, পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব সহ ২৫ জন আইপিএস ও আইএএসকে নিয়োগ কমিশনের

আমাদের ভারত, ২৮ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পদুচেরিতে আসন্ন নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় অবজারভার নিয়োগ করলেন নির্বাচন কমিশন। এই পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নজরদারির দায়িত্বে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাদের পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৫ জন সিনিয়র অফিসার রয়েছেন।

২৫ জন সিনিয়র অফিসারের মধ্যে ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস। এই তালিকায় রয়েছে হাওড়া পুলিশ কমিশনার এবং আসানসোলের কমিশনার। পাশাপাশি প্রশাসনিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আরো একটি নাম, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মিনা।

যে রাজ্যে ভোট হতে চলেছে সেই রাজ্যেরই স্বরাষ্ট্র সচিবের নাম কেন্দ্রীয় অবজারভার তালিকায় থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনো স্পষ্ট করে জানানো হয়নি স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য অবজারভারের দায়িত্ব দেওয়া হবে, নাকি তাকে অন্য কোনো রাজ্যে পাঠানো হবে। বিষয়টি নিয়ে আপাতত ধোঁয়াশা আছে, তবে সাধারণত নির্বাচনের সময় কোনো সেন্ট্রাল অবসার্ভারকে তার নিজের রাজ্যে রাখা হয় না। পাঠানো হয় অন্য রাজ্যে।

এই তালিকা ঘিরে কমিশনের ব্যাখা সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় অবজারভার নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অন্তত ৫ বার অফিসারদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো উত্তর না মেলায় কমিশন নিজেই অবজারভার দিয়ে তালিকা চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করেছে। সূত্রের খবর, নবান্নের তরফে এ বিষয় পাল্টা চিঠি যাবে কমিশনে। এখন অপেক্ষায় সেই চিঠিতে কী লেখা থাকে আর কমিশন তার কী উত্তর দেয়।

এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে কমিশনের তরফে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাচ ভিত্তিক তালিকাভুক্ত সমস্ত আইএএস, আইপিএস আধিকারিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্রিফিং বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। নির্ধারিত দিন, সময় এবং স্থানে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ব্রিফিং বৈঠকে কোনো আধিকারিকের অনুমোদিত অনুপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে নির্বাচন কমিশন। এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

এই নির্দেশ কার্যকর করতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে নোটিস পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ই- মেইলে সরাসরি যোগাযোগ বা অন্য যে কোনো উপলব্ধ মাধ্যম ব্যবহার করে নোটিস পৌঁছে দিতে হবে। তা অবশ্যই আধিকারিকের স্বীকৃতি সহ গ্রহণ করাতে হবে। নোটিশ আউট করার পর প্রত্যেক অফিসারের কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতি পত্রযুক্ত করে একটি লিখিত নিশ্চিতকরণ রিপোর্ট কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে। সেই রিপোর্ট ই- মেইল- এর মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *