আমাদের ভারত, ২৮ আগস্ট: কংগ্রেসে দলের ভিতরে বদল চেয়ে যে নেতৃত্বরা চিঠি দিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম গোলাম নবি আজাদ। এই অন্তর্কলহ সামাল দিতে সোনিয়া গান্ধী আগামী ৬ মাস অন্তর্বর্তীকালিন সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা শুরু করছেন। কিন্তু তার তেমন কাজ দিচ্ছে না। আবারও দলের অভ্যন্তরে নির্বাচন চেয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের এই রাজ্যসভার সাংসদ।
কড়া ভাষায় তিনি বলেন দলের মধ্যে নির্বাচন না করলে আগামী ৫০ বছর কংগ্রেসকে বছর বিরোধী আসনেই বসতে হবে।
এর আগে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ২৩ জন সিনিয়ার কংগ্রেস নেতা চিঠি লিখে দাবি করেছিলেন দলের স্থায়ী এবং সক্রিয় নেতৃত্বের প্রয়োজন। সেই চিঠিকছ কেন্দ্র করে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ঝড় ওঠে। চিঠি লেখার জন্য গোলাম নবি আজাদ সহ বাকি নেতাদের পাল্টা তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের এই রাজ্যসভার সাংসদ। অন্তর্ভুক্তি সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্বে থেকে যাওয়ার পর সোনিয়া অবশ্য ক্ষোভ প্রশমনে আজিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন।
তবে নেতৃত্ব বদলের দাবি থেকে সরছেন না তিনি। তাঁর মতে,অবিলম্বে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সহ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ গুলির জন্য নির্বাচন প্রয়োজন। তিনি বলেন,” গত কয়েক দশক ধরে আমাদের দলের নির্বাচিত নেতৃত্ব নেই। হয়তো আরও ১০-১৫ বছর আগেই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সরব হওয়া উচিত ছিল। এখন আমরা একের পর এক নির্বাচনে পরাজিত হচ্ছি। ঘুরে দাঁড়াতে গেলে আমাদের অবিলম্বে দলের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।
সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আমার দল যদি আগামী ৫০ বছর বিরোধী আসনে বসতে চায়, তাহলে অবশ্য দলের মধ্যে কোনো নির্বাচনের প্রয়োজন নেই।”
সঞ্জয় গান্ধীর আমল থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত গোলাম নবি আজাদ। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা। ২০২১ সালে সাংসদ হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ২০০২ সালে তার নেতৃত্বেই জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল করেছিল কংগ্রেস। তার কথায়, যারা দলের মধ্যে নির্বাচনের বিরোধিতা করছেন তারা আসলে পদ হারানোর ভয় পাচ্ছেন। অ্যাপোয়েন্টমেন্ট কার্ডের মাধ্যমে তারা নিযুক্ত হয়েছেন। দলে নেতৃত্ব বদলের জন্য লেখা চিঠির পক্ষে সওয়াল করে প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা বলেন, কংগ্রেসের বিভিন্ন পদাধিকারী, রাজ্য স্তরের সভাপতি, জেলা ব্লক সভাপতি যারা এই চিঠির বিরোধিতা করছেন, নির্বাচন হলে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। যারা কংগ্রেসের ভালো চান তারা প্রত্যেকে নির্বাচনকে স্বাগত জানাবেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু বলেছি ,রাজ্য, জেলা, ব্লক স্তরের সভাপতিদের নির্বাচনের মাধ্যমে বেছে নিন।”
আজাদছর এভাবে খোলাখুলি দাবি জানানোর ফলছ স্বাভাবিক যাবে সোনিয়া গান্ধী রাহুল গান্ধী ও দলের নেতৃত্ব অস্বস্তিতে পড়েছেন। সূত্রের খবর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এখন দেখার গোলাম নবী আজাদের এই পরামর্শ কিভাবে নেয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।

