আরামবাগ মহকুমায় তৃণমূলের দুই প্রার্থীকে মারধর, উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হল নির্বাচন

আমাদের ভারত, আরামবাগ, ৬ এপ্রিল: হুগলীতে তৃতীয় দফার ভোটে ঘটল একাধিক উত্তেজক ঘটনা। হুগলী জেলার ১৮টি বিধানসভার মধ্যে ৮টি বিধানসভার ভোট ছিল মঙ্গলবার। হুগলীর বাকি ১০টি বিধানসভার ভোট আগামী ১০ এপ্রিল। বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া বড় কোনও গন্ডগোলের খবর পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা গুলির মধ্যে রয়েছে তারকেশ্বর ও আরামবাগ।
আরামবাগে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজাতা মন্ডলকে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে আরামবাগের আরান্ডি এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত গর্ভবতী এক মহিলাকে মারধরের ঘটনা নিয়ে। ওই মহিলাকে চুলের মুঠি ধরে লাঠিসোঁটা নিয়ে মারধর করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এরপরই তৃণমূল-বিজেপি দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর ওই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আরামবাগ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা খাঁ’কে ওই এলাকার বিজেপি কর্মী সমর্থকরা তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বলে তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা খাঁ অভিযোগ তুলেছেন। তার ওপর হামলা চালানো এবং মারধর করেছে বিজেপি কর্মীরা। বিজেপি অবশ্য এই ঘটনা অস্বীকার করেছে।

অপরদিকে, বিজেপির কর্মীর মাকে খুন করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গোঘাট থানার বদনগঞ্জ এলাকায়। জানা গেছে, সোমবার রাতে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী এলাকায় ঢুকে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ। সেই সময় বিজেপির এক কর্মীকে বন্দুকের বাঁট দিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এরপরই ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।ছেলেকে মারতে দেখে মা ছাড়াতে গেলে তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। আঘাত করা হয় তার মাথায়, সেই আঘাত সহ্য করতে না পেরে ঘটনাস্থলেই বিজিপি কর্মীর মায়ের মৃত্যু হয়। এরপর এই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল গোঘাটের পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই খবরের কথা শুনে ছুটে যায় গোঘাটের বিজেপির প্রার্থী বিশ্বনাথ কারক। মৃতদেহটি উদ্ধার করে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

তৃণমূলের বুথ সভাপতির মৃত্যুকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক চাপানোতর শুরু হয় গোঘাটে। মৃতের নাম সুনীল রায়। বাড়ি গোঘাটের ফলুই এলাকায়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। মৃত ওই ব্যক্তি তৃণমূলের বুথ সভাপতি।
ছেলে বুথের এজেন্ট। তৃণমূলের অভিযোগ, এদিন ভোট দিয়ে ফেরার পথে, বিজেপি কর্মীরা তাকে ঘিরে ঠেলাঠেলি করে। সেখানেই পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তার। বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পনা করেই তাকে খুন করেছে বলে অভিযোগ গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থীর। যদিও অভিযোগ অস্বীকার বিজেপির। এই ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক চাপা উত্তেজনা গোঘাটজুড়ে।

সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভোট চললেও বেলা বাড়তেই অশান্তি ছড়ায় হরিপালে। হরিপাল বিধানসভার সিপাইগাছি প্রাথমিক স্কুলে ২২৮ নম্বর বুথে বিজেপি কর্মীদের মেরে মাথা ফাটানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনার খবর পেয়ে সিপাইগাছি পৌঁছান বিজেপি প্রার্থী সমীরণ মিত্র। ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হয়ে থাকা নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে বচসা হয় বিজেপির।তারপরেই মারধর করা হয় ছয় সাতজনকে। মাথা ফাটে তিন জনের। খবর পেয়ে পুলিশ আসতেই পালিয়ে যায় দু’পক্ষই।

তৃণমূল প্রার্থী করবি মান্না বলেন, কোনও গন্ডোগোলের খবর তার জানা নেই। ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবে হয়েছে।
জাঙ্গিপাড়ার চাঁচুয়া প্রাথমিক স্কুলে ২০২ বুথে বিজেপি ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। বুথে ঢোকার আগে তাদের তৃণমূলের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বিজেপি কর্মীরা। প্রার্থী দেবজিৎ সরকার চাঁচুয়া গ্রামে গেলে অভিযোগ জানায় বিজেপি কর্মীরা। ভোটারদের নিয়ে বুথে গিয়ে ভোট দান করানোর পাশাপাশি অবজারভারকে অভিযোগ জানান দেবজিৎ। বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল।
তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের ইলেকশন এজেন্ট অরিন্দম চক্রবর্তীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গাড়ি ভাঙ্গচুর করে ও মাথায় গুরুতর আঘাত পায় ওই ইলেকশন এজেন্ট।

অপরদিকে, তারকেশ্বর বিধানসভার ভবানীপুরে
অ্যাম্বুলেন্সে করে বিজেপি নেতার মদ সরবরাহের অভিযোগে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূল কর্মীরা। ভাঙ্গচুর করা হয় অ্যাম্বুলেন্সটি। বিজেপি নেতা সীতারাম মান্না সহ এক জনকে আটক করে পুলিশ। অপর আরেক অভিযুক্তকে তাড়া করে গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের থেকে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। মোট ৩ জন বিজেপি কর্মী আটক হয়। জমায়েত হাটাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী তাড়া করে গ্রামবাসীকে। একাধিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হল হুগলীর তৃতীয় দফার ভোট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *