নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে মমতাকে শোকজ নোটিশ ধরালো নির্বাচন কমিশন

আমাদের ভারত, ৭ এপ্রিল:মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ করল নির্বাচন কমিশন। মুসলিম ভোটারদের নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নোটিশ দিল কমিশন। বুধবার হুগলি তারকেশ্বরের নির্বাচনী সভায় মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জেরেই কমিশন তাকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মমতার কাছে জবাব তলব করেছে কমিশন।

তারকেশ্বরে নির্বাচনী প্রচারে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে ভোট বার্তা দিতে গিয়ে বিপাকে পরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির তরফে অভিযোগ জানানো হয় কমিশনে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শোকজ নোটিশ দিয়েছে কমিশন। নোটিশে তার কাছে জবাব জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তিনি সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে ভোট চেয়েছেন? আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তিনি সঠিক সময়ের মধ্যে জবাব দিতে না পারলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মমতার এই মন্তব্যের নির্বাচনী আদর্শ বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করেছে কমিশন। মমতার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশন নোটিশে লিখেছে “তৃতীয় দফার নির্বাচনের আগে তারকেশ্বরের সভায় গিয়ে মমতা বলেন, আমি আমার সংখ্যালঘু ভাই বোনদের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে আবেদন করছি,একটা শয়তানের কথা শুনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হতে দেবেন না।ও বিজেপির থেকে টাকা খেয়েছে। বহু সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে হিন্দু মুসলিমের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে। ভোট ভাগ করতে বিজেপি যে টাকা দিয়েছে তা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সিপিএম ও বিজেপির কমরেডরা”।

নাম না করে মমতা এক্ষেত্রে আব্বাস সিদ্দিকীকে আক্রমণ করেছিলেন। মমতার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেই নোটিশ দিয়েছে কমিশন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে না পারলে কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মঙ্গলবার কোচবিহারেভোট প্রচারে গিয়ে মোদীও এই প্রসঙ্গ নিয়ে মমতাকে খোঁচা দিয়েছিলেন। মোদী বলেছিলেন “দিদি সম্প্রতি আপনি বলেছেন, মুসলিমদের উচিত এক হয়ে ভোট দেওয়া। তাদের ভোট যাতে ভাগাভাগি না হয়। আপনি বুঝেছেন মুসলিমরাও আপনার থেকে মুখ ফিরিয়েছে। আপনি হারছেন।”

সোমবারই সংখ্যালঘু ভোট চাওয়া নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি। তিনি দাবি করেছিলেন মমতার এই ধরনের মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়া উচিত। এই অভিযোগ জানানোর দুদিনের মধ্যেই মমতার কাছে নির্বাচন কমিশনের নোটিশ পৌঁছে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *