আমাদের ভারত, ১২ নভেম্বর: ভারতের কাছে ক্রিকেট ম্যাচে হারলেই সংখ্যালঘু হিন্দু মেয়েদের অপহরণ করে নিগ্রহ করা হয় পাকিস্তানে। দিল্লিতে বসবাসরত এক হিন্দু পাক শরনার্থী এমনটাই জানিয়েছেন। ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ভীত সন্ত্রস্ত ওই হিন্দু পাক শরনার্থীকে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলতে শোনা গেছে। ক্রমেই এই ভিডিও ঝড় তুলেছে নেট দুনিয়ায়।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে প্রথমটায় কিছুতেই মুখ খুলতে রাজি নন সেই শরণার্থী মহিলা। ২০১১-তে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে থেকে এসে দিল্লির আদর্শনগরে বসবাস করছেন তাঁরা। ভারত–পাকিস্তানের হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে তিনি নিস্পৃহ। বরঞ্চ এই ম্যাচ ঘিরে তার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তিনি জানিয়েছেন ওই ভিডিওতে। তিনি বলেছেন, এর আগে ভারতের কাছে ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তান হারলে পাকিস্তানের মুসলিমদের রোষের শিকার হতেন সেখানে থাকা হিন্দু মেয়েরা। ক্রিকেট ম্যাচের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে হিন্দু মহিলাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করত পাকিস্তানিরা বলে জানান তিনি।
প্রথমটায় ক্যামেরার সামনে কিছুতেই মুখ খুলতে রাজি হচ্ছিলেন না সেই মহিলা শরণার্থী। কারণ পাকিস্থানে এখনও তার বহু আত্মীয়-পরিজন রয়েছে। তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কারণেই তিনি কিছু বলতে চাইছিলেন না। পরে ভিডিওটিতে তার মুখ না দেখানোর আশ্বাস পাওয়ায়, নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনান ওই মহিলা।
পাকিস্তানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া হিংসার কথা আবারও উঠে আসে তার কথায়। চার পাঁচ বছর আগের একটি ম্যাচের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতের ম্যাচ জেতার পড়ে হিন্দু এলাকা থেকে তিনটি গুজরাটি মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকিস্তান ম্যাচ হারলে অকথ্য অত্যাচার করা হতো সেখানে। ওই দেশের পুলিশও এই বিষয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করত। অপহৃত মেয়েদের শারীরিক নিগ্রহ করা হতো। অপহৃত মেয়েরা অধিকাংশ সময়েই আর বাড়ি ফিরত না।
পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর তথা মহিলাদের উপর অত্যাচারের বহু ঘটনার কথা প্রকাশ্যে উঠে এসেছে এর আগেও। তবে ভারত–পাক ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধের মেজাজ তৈরি হয় তার শিকার যে সেদেশের হিন্দু মেয়েরা হয় তা এই ভিডিওর মাধ্যমে উঠে এলো। ভারতের কাছে পাকিস্তানের হারের ফলস্বরূপ পাকিস্তানিদের রোষের শিকার হন সে দেশের হিন্দু মেয়েরা। ক্রিকেট ম্যাচের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে হিন্দু মহিলাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, যা অবশ্যই ভয়াবহ।

