বেআইনিভাবে নিয়োগপত্র পাওয়া শিক্ষকদের বিশেষ গোষ্ঠী নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষাবিদের

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৪ অক্টোবর: বেআইনিভাবে নিয়োগপত্র পাওয়া শিক্ষকদের কাজ বাতিল করার কাজ পর্যায়ক্রমে শুরু হচ্ছে। এ ব্যাপারে নাম-তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীন শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস।

রাজ্যে বেআইনিভাবে নিয়োগ হয়েছে বলে আগেই মেনে নিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারকে পাশে বসিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশে বেআইনিভাবে ক্রমতালিকা বহিভূর্ত প্রার্থীদের শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই ভুল শুধরে নিয়ে নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ মতোই সেই পদে নিয়োগ করা হবে।

অচিন্ত্যবাবু শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “যাদের নাম বাতিল হল, সেই ভুলভাল ঢুকে পড়া ‘সুশিক্ষকদের’ শতকরা ৯৮ % তো বিশেষ গোষ্ঠীর!
কী করে হয়?
১. শাসকরা আসলে কাদের পৃষ্ঠপোষক?
২. ও বি সি তালিকায় এদের শতকরা ৯৫ % -ই তো ওরা!
৩. নানা জায়গা থেকে টাকা আসে। ঠিক জায়গায় দিতে পারবে তো তারাই।

আশিস আচার্য লিখেছেন, “দুধেল গাই শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, পুলিশ, বন,স্বাস্থ্য, গ্রুপ ডি..সর্বত্র দুধেল গাইদের ঘুরপথ ধরে নিয়োগ করা হয়েছে।” স্বামী আদিদেবানন্দ লিখেছেন, “ওরা দুধেল গাই ! পাকিস্তানের ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা রাজ্য শাসন করে, সুতরাং নিজেদের সম্প্রদায়কে এগিয়ে দিয়ে, এগিয়ে বাংলা স্লোগান টা সফল করে। রাজ্যবাসীর নিজেদের মেয়ে কি না,তাই তিনি স্বৈরাচারী হলেও জনপ্রিয়।“

প্রভাত সরকার লিখেছেন, “হতাশায় আছি— সুদূর ভবিষ্যতে উদ্বাস্তু হতে হলে কোথায় যাব? আমাদের আর কোনো যাবার জায়গা আছে কি? সদ্য ঘটা ঘটনা থেকে এমন ভাবনা মনে আসা কি স্বাভাবিক নয়?” জবাবে সুতপা দেবী লিখেছেন, “কেন শ্রীলঙ্কা তো আছে ডুবে মরার জন্য। এখনো সময় আছে তৈরি হন তা না হলে ডুবে মরতে হবে।” অপর মন্তব্যে তিনি লিখেছেন, “বাঙালি ভাই চারা করতে করতে আজকে এখানে এসেছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকেও এরা শিক্ষা নেয় না। সেকুলার সনাতন হিন্দু গুলোই যত শয়তান।
আন্দোলন করতে হবে তা না হলে কেউ সারা দেবে না।”

শ্যামল কুমার দাস লিখেছেন, “এত কিছু জেনেও কেন যে কেন্দ্রীয় গুজরাটি সরকার নীরব দর্শক।”
দীনেশ বরাট লিখেছেন, “আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম অন্ধকার।” অলোক নস্কর লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব‍্যাবস্থা আজ এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে।”

হীরেন্দ্রনাথ কোলে লিখেছেন, “ওবিসি তালিকা বিরাট গ্যাঁড়াকল। গ্রাম মফঃস্বলের রাস্তার দুধার বিশেষ গোষ্ঠী বিশেষ উদ্দেশ্যে দখল করছে। দাঙ্গা লাগলে পালাবার পথ রুদ্ধ।” গৌতম কর্মকার লিখেছেন, “ওবিসি কোটার ক্ষীর ওবিসি-এ খেয়ে নিচ্ছে, হিন্দু ওবিসিরা নামেই ওবিসি। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি সিটে একটি ওবিসি কোটা ওটাও ওদের। ওবিসি কোটা নয়তো ‘দুধেল কোটা!’

জানা গেছে, নবম-দশমের ১৮৩ জনের অবৈধ নিয়োগের তালিকা, স্কুল সার্ভিস কমিশন হলফনামার আকারে আদালতে জমা দিয়েছে। সেই তালিকা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও তা যাচাই করেনি বিশ্ব বার্তা। মামলায় স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ১৮৩ জন শিক্ষকের যাবতীয় তথ্য ও বিদ্যালয় নাম তালিকা আদালতে হলফনামা আকারে জমা করেছে। এই সমস্ত শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *