আমাদের ভারত, ৮ এপ্রিল: রাজ্যের প্রস্তাবিত নয়া শিক্ষানীতির বিতর্কে ‘ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে ব্যবস্থা করার’ প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন এবিটিএ-র সভাপতি কৃষ্ণপ্রসন্ন ভট্টাচার্য।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ নিয়ে দেশের নানা প্রান্তের পড়ুয়াদের বিরাট উন্নতি হয়েছে, দেশের শিক্ষাবিদ থেকে অর্থনীতিবিদ, এমনকি বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় দেশের গ্রাম থেকে শহরের নানা পড়ুয়ারা শিক্ষার আলোয় দিশা খুঁজে পেয়েছেন – ঠিক এমনটাই পরীক্ষা পে চর্চায় দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই রাজ্য শিক্ষানীতি সম্পর্কে ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

কৃষ্ণপ্রসন্ন ভট্টাচার্য বলেন, “প্রতিটি রাজ্যের একটি নির্দিষ্ট শিক্ষানীতি থাকে এবং পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এটি সাধারণের শিক্ষানীতি। যাতে শিক্ষক নিয়োগ, পড়াশোনায় সুবিধা, অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।যেগুলির একটিও সঠিক ভাবে হয় না এখন। সুদূর গ্রামে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে গিয়ে হাজারো সমস্যার সম্মুখীন হন, তাদের শিক্ষক নেই – পরিকাঠামো নেই। বেশ কিছু জায়গায় বেসরকারি স্কুল তৈরি হয়ে গিয়েছে, তারা সেখানেও পৌঁছাতে পারছে না।”
ব্রাত্য বসু জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতি বিদেশি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের হুবহু নকল। এই রাজ্যে সেই শিক্ষানীতি একেবারেই মানা হবে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হবে এটি কার্যকরী হবে, চেষ্টা করা হবে দ্রুত শুরু করার। সূত্রের খবর, নীতি মেনে তৈরি করা হয়েছে দশ সদস্যের একটি কমিটি। তারা বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেই কাজ করবে। মহারাষ্ট্র এবং কেরলের শিক্ষানীতির ওপর জোর দেওয়া হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে ইউজিসি কর্তৃক যা গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়েও খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু জাতীয় শিক্ষানীতির পাশাপাশি বাংলার শিক্ষানীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যের শিক্ষামহলে। এ প্রসঙ্গে কী বলছে শিক্ষক সংগঠন?
এবিটিএ-র সভাপতি বলেন, “দেশজুড়ে যে বেসরকারিকরণ শুরু হয়েছে তাতে কতটা ভাল হবে তাতেই সন্দেহ। তবে স্কুলের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রাখা দরকার। সিলেবাস বিজ্ঞানসম্মত করতে হবে, যখন যা খুশি লিখে দিলে চলবে না। এবং স্কুলের কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাউন্সিলরদের রাখার একেবারেই প্রয়োজন নেই। ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে ব্যবস্থা করলেই ভাল।”

