আমাদের ভারত, ২২ আগস্ট: র্যাগিং আটকাতে এবার টোল ফ্রি নম্বর চালু করল রাজ্যের তৃণমূল সরকার। মঙ্গলবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে এই নম্বরের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মস্থলে র্যাগিং হলে সেই নম্বরে ফোন করে জানানো যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লালবাজারে সারা রাজ্যের জন্য একটি টোল ফ্রি নম্বর করা হচ্ছে। সেই নম্বরটি হল—১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। ২৪ ঘন্টা এই নম্বর খোলা থাকবে।
যাদবপুর কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে এই নম্বর চালু করা হল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যাদবপুর আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। অনেকদিন এটা বন্ধ ছিল। হয়তো অনেক ঘটনা ঘটে কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে জানাতে পারে না। অন্ধ্রপ্রদেশের একটি ঘটনা ঘটেছে। আমি সিআইডির হাতে সেটার দায়িত্ব দিয়েছি। তারা তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।”
মঙ্গলবার যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে মমতা বলেন, যদি কোথাও কোনো কলেজ, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে, অথবা কর্মস্থলে কারোর উপর কেউ র্যাগিং করে একটা ফোন করে ইনফরমেশন দেবেন, আর আপনার ফোন নম্বরটা দিয়ে দেবেন। সেই নম্বর গোপন থাকবে। আপনার তথ্য যাতে কেউ না পায় তার জন্য পুলিশ সেলফ লকার তৈরি করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন, কত কষ্ট করে বাবা মায়েরা ছেলেদের মানুষ করে। ছেলেমেয়েরা এসব জায়গায় ভর্তি হতে আসে। সেখানে দিনের পর দিন তাদের ওপর অত্যাচার হয়। একটু থেমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু যাদবপুর নয়, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই হয়। তিনি বলেন, আমাদের সময় এসব ছিল না। ইদানিং এই সব বেড়েছে। যত দেশটা উন্নত হচ্ছে কারো কারো তত অধঃপতন হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার কথা বলেন। তিনি বলেন, পড়াশোনায় ১০০% নম্বর পেলাম এটাই আমার কোয়ালিফিকেশন নয়। প্রকৃত মানুষ হওয়াই কোয়ালিফিকেশন। অনেকে পড়াশোনা তেমন করেনি কিন্তু তার মানবিক দিক রয়েছে। সুতরাং আগে মানুষ হোন। যারা এগুলো করবেন তাদের বিরুদ্ধে জোট বাঁধুন।
এর আগেও একাধিকবার যাদবপুরে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই ঘটনার সমালোচনায় যাদবপুরকে তিনি আতঙ্কপুর বলে বর্ণনা করেছেন। ইনডোরের একটি সভা থেকে এই ঘটনার দায় সিপিএমের ওপর চাপিয়েছেন। যদিও তার মন্তব্যের সমালোচনা করে পাল্টা আক্রমণ করেছে সিপিএম।

