মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে ইডি সিবিআই, এবার মুখ্যমন্ত্রীর পালা আসতে চলেছে: সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ৯ ফেব্রুয়ারি: মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের লোকেদের কাছ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে ইডি সিবিআই। এবার মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে মুখ্যমন্ত্রীর পালা আসতে চলেছে, গতকাল কলকাতায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এমনটাই মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

গতকাল কলকাতায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় কটাক্ষ করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, আমি ইডির পারফরমেন্সে হতাশ। বাংলা দেড় কোটি নয় দেড়শো কোটি টাকার উদ্ধার হওয়ার মতো জায়গা।” এরপরই তিনি অভিযোগ করেন, এই টাকা উদ্ধারের ঘটনায় মনজিত সিং গেরেওয়ালের নাম উঠে আসছে, যাকে জিট্টি ভাই বলে ডাকে সবাই। তার অফিস থেকে এবং তার পরিচিত লোকজনের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে ইডির দাবি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই লোকটির সাথে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের এক সদস্যের নিবিড় যোগাযোগ কেন? কি ধরনের লেনদেন হয় তার সাথে? সুকান্ত মজুমদার বলেন, এবার আর জেলার কুন্তল ঘোষ বা কুনাল ঘোষ নয় এই ঘটনায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ দেখা যাচ্ছে।” যদিও সুকান্ত মজুমদার মনে করিয়ে দেন বিপদে পড়লে মুখ্যমন্ত্রী কাউকে চেনেন না, এমনকি পরিবারও তখন তার নয়। অথচ যতক্ষণ না ধরা পড়ছে তার আগে পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী নিজের ভাইদেরকে অলিম্পিয়াড অ্যাসোসিয়েশন, হকি এসোসিয়েশনের মাথায় বসিয়ে রাখেন।

এরপরই সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের লোকেদের পর্যন্ত পৌঁছে গেছে ইডি সিবিআই, এবার মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে মুখ্যমন্ত্রীর পালা আসতে চলেছে।” তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দ্যেশ্যে পরামর্শের আকারে বার্তা দেন, “হরি সন্ধে হল দিন তো গেল পার করো আমারে। এই গান করতে শুরু করুন সময় আসছে আপনারও। সুকান্ত মজুমদার জানান, ওই জিট্টি ভাইয়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এক ভাইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চাইছি এবং কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত চাইছি।

শোনা যাচ্ছে কয়লা কাণ্ডে যে বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে, সেই বাড়ির মালিক মনোজিত সিং গেরেওয়াল। যিনি আবার দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূলের হিন্দি সেলের সভাপতি। সুকান্তবাবু প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্নীতিকে আশ্রয় না দিলে মাননীয়া দিদি কি হিন্দি শেখার জন্য তাঁকে নিযুক্ত করেছিলেন?

প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার কাণ্ডে ফের রাতভর ইডির তল্লাশি চলে। তাতে কলকাতা থেকে ফের যখের ধন মিলেছে। বালিগঞ্জের এক নির্মাণকারী সংস্থার অফিসে হানা দিয়ে উদ্ধার প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। কোথা থেকে এল এত পরিমাণ নগদ টাকা? কোন পথে লেনদেন? জানতে এবার সংস্থার কর্ণধার এবং সংস্থার হিসাব রক্ষককে দিল্লির অফিসে তলব করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই সপ্তাহের মধ্যে ইডির দিল্লির সদর দফতরে তাদের দুজনকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। রাতভর অভিযানে বান্ডিল বান্ডিল নোট ছাড়াও একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করেছেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। ভোর পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তারা বালিগঞ্জের ঠিকানা থেকে বের হন বলে সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *