সঙ্কটে পড়লেই মমতা দিল্লি যান, রাজ্যে যেভাবে দুর্নীতির সুনামি চলছে তাতে ইডিকে আটকানো যাবে না: ভারতী ঘোষ

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
৩০ জুলাই: সঙ্কটে পড়লেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যান। যেমন রাজীব কুমারের সময় গিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যে যেভাবে দুর্নীতির সুনামি চলছে তাতে ইডিকে আটকানো যাবে না, তারা শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যাবে বলে শনিবার মেদিনীপুরে মন্তব্য করেন বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ।

এদিন ব্যক্তিগত কাজে মেদিনীপুরে এসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যের সমাজ ব্যবস্থায় যেভাবে নোংরামি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে তাতে এরকম একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ঘুষ দিতে হবে নইলে সরকারি চাকরি হবে না। এসএসসি এবং টেট চাকরি প্রার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এইসব যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের জায়গাগুলি টাকা দিয়ে অযোগ্যরা দখল করে বসে রয়েছে। আগে তাদের না সরালে চাকরি দেওয়া মোটেই সহজ নয়। ঘুষ নিয়ে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি সবাই দেখছেন।

গ্রামের গরিব ছেলেরা ফর্ম ফিলাপের টাকা পাচ্ছে না অথচ সেখানে দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা বের হচ্ছে। চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোচনা প্রসঙ্গে ভারতী ঘোষ বলেন, অভিষেক তো সরকারে নেই, তিনি একটা সংগঠনিক পদে রয়েছেন। যাদের শিক্ষকের চাকরি পাওয়ার কথা তারা না পেয়ে টাকা দিয়ে অন্যেরা বসে রয়েছেন। এটা শিক্ষা দপ্তরের দুর্নীতি। এর সমাধান তদন্তের মাধ্যমে হবে। শিক্ষা দপ্তরের লোক বসে চাকরির বিষয় ঠিক করবেন। যারা বাইরের লোক তারা এখানে কি করতে পারবেন জানি না। তবে চাকরি প্রার্থীরা যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হয়েছেন, আমরা চাই তাদের ১৫ দিনের মধ্যে চাকুরির ব্যবস্থা করা হোক। আজ বৈঠক, কাল বৈঠক, কাল হবে, পরশু হবে এগুলো এক ধরনের চালাকি। সমস্যা সমস্যাই থেকে যাবে, কিন্তু যাতে তার প্রভাব রাজ্যের সার্বিক অবস্থার উপর না পড়ে সেই চালাকি করার চেষ্টা চলছে।

ভারতী ঘোষ বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতারের পর সরকার পিছিয়ে পড়েছে। আমরা চাইছি ১৫ দিনের মধ্যে চাকরি প্রার্থীদের চাকরি দিক সরকার। কিন্তু প্রশ্ন হল তা দেবে কি করে? যোগ্য প্রার্থীদের জায়গায় তো অযোগ্যরা টাকা দিয়ে বসে রয়েছে। তাদের না সরালে এদের চাকরি দেবে কোথা থেকে? আগেতো দুর্নীতিকে সরাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *