অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৫ জানুয়ারি:
পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির পর যোগ্য ও বৈধ ভোটার একজনও বাদ যাবে না। রবিবার এই আশ্বাস দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। পাশে উপবিষ্ট এসআইআর-এর মুখ্য তদারককারী আধিকারিক সুব্রত গুপ্তর সামনেই দাবি করলেন, সম্পূর্ণ আইনসঙ্গতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনীর চলতি পর্যায়ের কাজ চলছে।
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন স্তরে মানুষের অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠেছে। এই প্রক্রিয়ার প্রকাশ্য বিরোধিতার ডাক দিয়েছে নানা রাজনৈতিক দল। রবিবার তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে বিভিন্ন অঞ্চলে এসআইআর বিরোধী সমাবেশ হয়। এই আবহে এ দিন আলিপুরে ‘ধনধান্য’ প্রেক্ষাগৃহে নির্বাচন কমিশন আয়োজিত জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠানে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা নিয়ে এই আশ্বাস দেন সিইও।
২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবসে আমজনতার ভোটাধিকারই যথেষ্ট অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে যখন অভিযোগ উঠছে, এসআইআর-এর সেই আবহে এনিয়ে আক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করলেন, তাতে আগাগোড়া নির্বাচন কমিশন আর কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের ‘আঁতাঁত’ নিয়ে তুলোধোনা করেছেন।
অন্যদিকে, এদিন এর আগে, মঞ্চের পিছনে বড় পর্দায় ভারতের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের এক ভিডিয়ো বার্তা পরিবেশন করা হয়। তাতে তিনি বলেন, মিথ্যে তথ্য, বিকৃত তথ্য, ভিত্তিহীন যুক্তি (মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন অ্যান্ড ফলস ন্যারেটিভ) সম্পর্কে সচেতন হতে হবে তরুণ প্রজন্মের ভোটদাতাদের। তাঁদের মধ্যে ভোট ও ভোটপ্রক্রিয়া সম্পর্ক স্বচ্ছ চেতনা আনা ও তার চর্চার জন্য নির্বাচনী ক্লাব তৈরি করা দরকার। কমিশন এ কারণে যুব-কেন্দ্রিক নানা ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী।
‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’ নামক গুরুগম্ভীর একটি শব্দ প্রয়োগ করে আমজনতাকে শুনানির লাইনে ডেকে হেনস্তার অভিযোগে তোলপাড় গোটা বাংলা। এই পরিস্থিতিতে এক্স হ্যান্ডল পোস্টে মমতা লিখেছেন, ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার— আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত।’
এদিন সভা চলাকালীনই উপস্থিত আমন্ত্রিতদের কেউ কেউ বলেন, দেড় কোটি ভোটদাতার আবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে কমিশন। এ প্রসঙ্গে সিইও বলেন, এই অভিযোগ প্রকাশ্যে কেউ করেছে? যদি কেউ তা করে থাকেন, কমিশন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করবে।
এসআইআর নিয়ে যে জনমানসের একাংশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সে কথা স্বীকার করে অতিরিক্ত সিইও দিব্যেন্দু দাস প্রকাশ্যেই বলেন, এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর একটা দায়িত্ব আছে। কমিশনের তরফে এ নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হলেও লোকে ওঁদের কথা বেশি মানে। আমরা নিশ্চিত করছি, একজন যোগ্য ভোটারের নামও যাতে বাদ না যায়, একজন অযোগ্য ব্যক্তির নামও যাতে ভোটার তালিকায় না থাকে, সেদিকে (হেলদি অ্যান্ড ক্লিন) লক্ষ্য রেখে আমরা ‘সামারি রিভিশন’ (সংশোধনী) কাজ করছি।
ভারতের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার বলেন, “সদ্য নয়াদিল্লিতে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর বিশ্বের সর্ববৃহৎ তিন দিনের আয়োজন, আলোচনা হয়ে গেল। তাতে ৭০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিতে এসেছিলেন। গোটা বিশ্ব ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর নজর রাখছে। আমরা তাই এই ব্যবস্থার পবিত্রতা ও স্বচ্ছতার ওপর পূর্ণ নজর রাখতে চাই।”

