কড়া পদক্ষেপ! ২৪ ঘন্টার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করল নির্বাচন কমিশন

আমাদের ভারত, ১২ এপ্রিল: সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল। প্ররোচনামূলক বক্তৃতা করার অভিযোগে মমতাকে পাঠানো নোটিশের জবাবে সন্তুষ্ট না হয়েই তাঁর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন।

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, মানুষ এর জবাব দেবে। পক্ষপাতদুষ্ট কমিশন আসলে বিজেপির একটি শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ভোটবাক্সে এর জবাব দেবে মানুষ। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছেন গণতন্ত্রের পক্ষে এটা কালো দিন।

গত ৩ এপ্রিল তারকেশ্বরে আব্বাস সিদ্দিকীর নাম করে এক মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, “মুসলিম ভোট ভাগ হতে দেবেন না। বিজেপি এলে মনে রাখবেন সমূহ বিপদ। সবচেয়ে বেশি বিপদ আপনাদেরই।” এক্ষেত্রে কমিশনের যুক্তি ধর্ম বা জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট চাওয়া আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন। কোনও প্রার্থীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তাঁর প্রার্থী পদ খারিজ করা যেতে পারে।

এরপর কোচবিহারের জনসভা থেকেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই বাহিনীর একটা অংশ বিজেপির হয়ে কাজ করছে। মমতা বলেছিলেন, সিআরপিএফ যদি গন্ডগোল করে মেয়েদের একটা দল মিলে ওদের ঘেরাও করে রাখবে। আরেকটা দল ভোট দিতে যাবেন।‌ শুধু ঘেরাও করে রাখলে ভোট দেওয়া হবে না। ভোট নষ্ট করবেন না। পাঁচজন ভোট দেবেন আর পাঁচজন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করে রাখবেন।

এই মন্তব্যের পরেও কমিশন রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিল। কমিশন এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশও পাঠায়। গত শনিবার এই নোটিসের জবাব দেন মমতা। তিনি লিখেছিলেন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। দেশের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় তাদের অবদান খুব উঁচুতে।

তবে আজকের কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে মমতার মঙ্গলবারে সফরসূচি বাতিল হয়। মঙ্গলবার বারাসাত, বিধান নগর, নদীয়ার হরিণঘাটা ও কৃষ্ণগঞ্জে মমতার সভা করার কথা ছিল, সেগুলি সব বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যুর পর রবিবার সেখানে যাবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন মমতা। সেই ঘটনার পরই কমিশন ৭২ ঘণ্টার জন্য যেকোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের শীতলকুচিতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপরে এবার মমতার ভোট প্রচারে ২৪ ঘন্টার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করল কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *